যুগপৎ আন্দোলনের তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি নিয়ে আজ সোমবার আবার মাঠে নামছে বিএনপি ও সমমনা দল ও জোট। মহানগর ও উপজেলায় এ কর্মসূচি পালন করবে তারা।
এবারও বিএনপির কর্মসূচির ঘিরে মাঠে থাকার প্রস্তুতি রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। দুপুর ২টায় মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য, সিনিয়র নেতা ও অঙ্গ সংগঠন নেতাকর্মীদের মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি বুধবার গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে বলা হয়, জেলা শহর বাদে সারা দেশে সব মহানগর ও উপজেলায় সমাবেশ ও মিছিল করবে দলটি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপির সমমনা সাতদলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বেলা ১১টায় কারওয়ান বাজার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভবন সামনে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দুপুর ২টায় পান্থপথ এফডিসিসংলগ্ন অফিস সামনে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট দুপুর ২টায় নয়াপল্টনের প্রীতম হোটেলের উল্টো দিকে আলরাজী ভবনের সামনে এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জাতীয় প্রেস ক্লাব সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় একযোগে এ কর্মসূচি পালন করবে।
এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশ নিচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
জানতে চাইলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগের দাবিসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের পক্ষে ১০ দফা ঘোষণা করেছি। এসব দাবি আদায়ে যুগপৎভাবে আমরা রাজপথে নেমেছি। ধাপে ধাপে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকব।’
অন্যদিকে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান ও সমাবেশ করবে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ বেলা ৩টায় ভাটারার ১০০ ফুট সড়কে শান্তি সমাবেশ করবে। যুবলীগ ফার্মগেটে ও ছাত্রলীগ শাহবাগে অবস্থান নেবে। এ ছাড়া সকাল থেকেই বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় থাকবেন বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন মানে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-জ্বালাও-পোড়াও। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চাই না বলেই মাঠে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এটা কোনো পাল্টা কর্মসূচি নয়। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।’
বিএনপি যেন ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড- পরিচালিত করতে না পারে সে জন্য আওয়ামী লীগ অবস্থান ও সমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে থাকে এমনটি দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে অতীতে দেখা গেছে, রাজধানীতে বিএনপির কর্মসূচি মানেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকেন।
দল দুটি পাল্টাপাল্টি মাঠে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে যেকোনো সময় অঘটন ঘটার আশঙ্কায় থাকে জনসাধারণ।
গত শনিবার দুপুরে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় কমিটির যৌথসভা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বলেছেন বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন কর্মসূচি করতে কোনো বাধা নেই। তবে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করলে সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।
পরে বিকেলে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে হওয়া বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাবে। ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন যাতে ঘটাতে না পারে সে জন্য জনগণের পাহারাদার হয়েই মাঠে থাকে আওয়ামী লীগ।
