পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৭তম আসর। আর এ আসরকে ঘিরে আশপাশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহনে ভাড়া নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। ভুলতার গোলাকান্দাইল মোড় থেকে মীরের বাজার কিংবা কাঞ্চন সেতু এলাকা থেকে কুড়িল। উভয় সড়কের চলাচলরত সব ধরনের যানবাহনে ও সিএনজি অটোরিকশায় ভাড়া আদায় করছে তিন থেকে চার গুণ। আবার রাত হলে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে জিম্মি করার রয়েছে অভিযোগ। এ ছাড়া মেলায় গাড়ি পার্কিংয়ের সময়ও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্যমেলায় আসার জন্য বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুড়িল বিশ^রোড থেকে মেলা পর্যন্ত ও ভুলতা থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। মেলার দিন বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাস কাউন্টারেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বেশি ভিড় থাকার কারণে বাস না পাওয়া ও বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ছাড়া এশিয়ান বাইপাস ও ৩০০ ফুট সড়কে যানজটের কারণেও বাস আসতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে অনেককে সিনএনজি অটোরিকশা অথবা ইজিবাইকে করে গন্তব্য স্থানে যেতে হচ্ছে। কুড়িল বিশ^রোড থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত লোকাল সিএনজি ভাড়া ৪০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে
১২০ টাকা করে। এ ছাড়া ভুলতা থেকে কাঞ্চনের ভাড়া ৩০ টাকা হলেও সেই ভাড়া নেওয়া হয় ৯০-১০০ টাকা। সারা দিন চালক দ্বিগুণ ভাড়া নিলেও সন্ধ্যার পর সেই সেই ভাড়া হয়ে যায় তিন থেকে চার গুণ। মেলা দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ার কারণে পরিবহন চালকরা তার সুযোগ নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষও বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবহন ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণে দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগ, পূর্বাচলে দ্বিতীয়বারে মতো বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর। যানজটের কারণে কাউন্টারে বাস আসতে দেরি হয়ে যায় অনেক। এ কারণে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে মেলা কর্র্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির দাবি তাদের। অনেকে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কারণেও পড়ছেন বিপাকে।
ভুলতা এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, ‘পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় গিয়ে যেন জিম্মি হয়ে গিয়েছিলাম। মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি অটোরিকশার চালক আমার কাছে আকাশছোঁয়া ভাড়া চেয়ে বসেন। কাঞ্চন থেকে সিএনজি ভাড়া ১৫০ টাকা হলেও চালক আমার কাছে ৩৫০ টাকা দাবি করেন। কোনো গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মেলাকে কেন্দ্র করে সড়কে সব ধরনের যানবাহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেটি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। মেলার ভেতরে গিয়ে দেখলাম কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। স্বাস্থ্যবিধি না থাকার কারণে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী নাজমা আক্তার বলেন, ‘বিআরটিসি বাস কাউন্টারে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা নেই। টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে হয়রানির শিকার হতে হয়। এর বিকল্প অটোরিকশা কিন্তু তারাও মনমতো ভাড়া আদায় করছে।’ রামপুরা এলাকা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী সবির হোসেন বলেন, ‘অটোরিকশা চালকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া আদায় করছে।’
কাঞ্চন এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের মহাসড়কে চলতে হলে ট্রাফিক পুলিশের নামে লাইনম্যানকে টাকা দিতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ হয় আর ওই খরচ তুলতে যাত্রীদের কাছ থেকে কিছুটা বেশি আদায় করতে বাধ্য হচ্ছি।’
তবে বিআরটিসি বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কথা যাত্রীরা বললেও এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
