পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত বছর এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ফের পদে ফেরার ছক কষছেন। নিজের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ফের সরকারপ্রধানের পদে বসতে চাচ্ছেন তিনি। শাহবাজ শরিফ সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি লংমার্চ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি করে যাচ্ছেন তিনি। ফেডারেল সরকারের আগাম নির্বাচনের দাবিতে হুমকিও দিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে দলীয় এক সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই আরও আটঘাট বেঁধে নামেন তিনি। পিটিআই সমর্থিত প্রাদেশিক পরিষদ বিলুপ্তির হুমকি দেন জোরালোভাবেই। কয়েক দিনের মধ্যে দেখান সেই হুমকির সত্যতাও। তার ইচ্ছায়ই গত শনিবার রাত থেকে ভেঙে গেছে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদ। অথচ কয়েক মাস আগেই সেখানে শাহবাজের দলকে হারিয়ে জোট সরকার গঠন করেছিল পিটিআই। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার দলের নেতৃত্বাধীন আরেক প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পরিষদও ভেঙে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুটি বড় প্রাদেশিক পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেলে জাতীয় নির্বাচন দেওয়া ছাড়া শাহবাজ সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না। ইমরান দুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেও ছিলেন। হাম নিউজ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেছিলেন, শাহবাজ শরিফকে শিগগির জাতীয় পরিষদে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না, তা তাকে প্রমাণ করতে বলবেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এ ছাড়া গতকাল লাহোরে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায়ও তিনি একই কথা বলেন। ইমরান বলেন, ‘শাহবাজ শরিফ পাঞ্জাবে আমাদের পরীক্ষা নিয়েছেন। এবার তার পালা। জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না, তা তাকে প্রমাণ করতে হবে।
ইমরানের এই হঁশিয়ারি ও প্রাদেশিক পরিষদ বিলুপ্তির ধাক্কা শাহবাজের দল পিএমএল-এ এর জন্য গোলা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, পিটিআই নিজেদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই প্রদেশেই সরকার গড়তে চায়। আর দলটির প্রধান হিসেবে ইমরানের মূল লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ফের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা। বিশ্লেষকরা বলছেন, গোলা ছোড়ার লক্ষ্য ও সময় দুটোতে দারুণ টাইমিং হয়েছে সাবেক এ ক্রিকেটারের। অর্থনৈতিক সংকটে টালমাটাল সরকার তা সামলাতে পারবে কি না রয়েছে সংশয়। এখানে অবশ্য প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিও একজন ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করবেন। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ সদস্য ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী পারভেজ এলাহির আবেদনে গভর্নর সই না করায় শনিবার সন্ধ্যায় প্রাদেশিক পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও সেখানকার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াচ্ছে তার জন্য অন্তত পক্ষে আরও সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রদেশটির গভর্নর বাঘিউর রেহমান এক টুইটে লিখেছেন, আমি পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শামিল না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বরং সংবিধান এবং আইনকে তার আপন গতিতে চলতে দেব। এমন করা হলে আইনি প্রক্রিয়ার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।
অবশ্য পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর গভর্নর বাঘিউর রেহমান মুখ্যমন্ত্রী এলাহিসহ বিরোধীদলীয় নেতা হামজা শাহবাজকেও তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য পিটিআই-পিএমএল-কিউ জোট এবং বিরোধী দল পিএমএল-এন উভয়কেই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর দুটি করে নাম প্রস্তাব করতে হবে। দু’পক্ষ সাতদিনের মধ্যে একমত হতে না পারলে বিষয়টি তখন চলে যাবে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন তখন নিয়োগের কাজটি করবে। আর খাইবার পাখতুনখাওয়া একই অবস্থায় পড়লে নির্বাচন কমিশনকে হয়তো জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে।
