ব্রাজিলের বিভিন্ন সরকারি ভবনে সম্প্রতি হামলা চালায় নির্বাচনে পরাজিত প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সমর্থকরা। তাদের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার মিল পেয়েছেন বিশ্লেষকরা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
কংগ্রেস ভবনে হামলা
৬ জানুয়ারিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর হামলার দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২১ সালের ওই দিনে দেশটির তৎকালীন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে অধিবেশন চলাকালে হামলা-ভাঙচুর চালায়। সহিংসতার সময় ভবনের ভেতরে থাকা আইনপ্রণেতাদের ভয়ার্ত চেহারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আত্মরক্ষার্থে তাদের কয়েকজনকে ঘাপটি মেরে লুকাতেও দেখা যায়। যারা লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে প্রাচ্যের দেশগুলোতে গণতন্ত্র ফেরি করে বেড়ায়, খোদ নিজের দেশেই তাদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো তারা কখনো ভাবেননি। ওই ঘটনার দুই বছর পার হয়ে গেলেও মার্কিনিরা দুঃসহ সেই স্মৃতি থেকে বের হতে পারেননি। ক্যাপিটলে হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ চ্যানেলগুলো ট্রাম্প সমর্থকদের সহিংসতার ভিডিও প্রচার করে। পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ক্যাপিটলে ঢুকে তারা কীভাবে তাণ্ডব চালায়, তা সেদিন আরও একবার টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে। দুদিন পর ৮ জানুয়ারিও একই ধরনের ভিডিও প্রচার করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। মার্কিনিরা শুরুতে ভেবেছিল, চ্যানেল কর্র্তৃপক্ষ বোধহয় ৬ জানুয়ারির পরও ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডব দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটু পর তারা খেয়াল করেন, হামলার ধরনে মিল থাকলেও কোথায় যেন গরমিল আছে। হামলাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নেই, ভবনের নকশাও ভিন্ন। তারা অচিরেই বুঝতে পারেন, ওয়াশিংটন ডিসি নয়, বরং চার হাজার মাইল দূরে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় দেশটির কংগ্রেস ভবন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সুপ্রিম কোর্ট ভবনে হামলা চালাচ্ছেন নির্বাচনের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সমর্থকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের ওই দুই ঘটনার মধ্যে যে মিল রয়েছে, তা কোনো দুর্ঘটনা নয়। ২০১৮ সালে বলসোনারো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো গড়ে তোলেন তিনি। ট্রাম্পের মতোই দাবি করতে থাকেন, জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর তিনি। যারাই বলসোনারোর মত ও পথের বিরোধিতা করেন, তাদের নির্দ্বিধায় দেশদ্রোহী বা অপরাধী বলতেন তিনি। ট্রাম্পের মতো ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করেন বলসোনারো। রাষ্ট্রের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান যেমন আদালত, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহের বীজ দানা বাঁধাতে ভূমিকা রাখেন তিনি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো বলসোনারো কয়েক বছর ধরে অনুসারীদের বোঝাতে সক্ষম হন, যে নির্বাচন তাকে জয়ী ঘোষণা করবে না, সেই নির্বাচনে যে কারচুপি হয়েছে, তা নিয়ে মনের মধ্যে সন্দেহ রাখা উচিত নয়। বলসোনারোর এই বক্তব্য গত বছরের অক্টোবরে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের চিন্তিত করে। বলসোনারো যদি নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসেন, তাহলে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে আরও কোণঠাসা, আরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেন তারা। আর বলসোনারো যদি তার প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থি লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান, তাহলে তাতেও বিপদ। তিনি তার সমর্থকদের প্ররোচিত করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে দিতে পারেন বা সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হতে পারেনএমনটা ধারণা হয় তাদের।
নির্বাচনের আগে
গত বছর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই মাস আগে বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডেকোটা অঙ্গরাজ্যের সি ফলস শহরে যান। উদ্দেশ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয় বলে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক। এদের মধ্যে ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন কে ব্যাননও ছিলেন। ৮ জানুয়ারি ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনগুলোতে যে হামলা হয়, তার নীলনকশা ওই বৈঠকে তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ট্রাম্পের মতো বলসোনারোও কারচুপির অভিযোগ এনে অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রাসিলিয়ায় কংগ্রেস ভবন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সুপ্রিম কোর্ট ভবনে তাণ্ডবের ঘটনার সঙ্গে বলসোনারো বা তার ছেলে এদুয়ার্দো সরাসরি জড়িত, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, বলসোনারো ও তার ছেলে দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করতে সফল হয়েছেন।
নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বলসোনারো পুনর্নির্বাচনের যে দাবি জানান, তাতে সমর্থন দেন ট্রাম্প। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। গত বছর ব্রাজিলের নির্বাচনের দুই মাস আগে যখন এদুয়ার্দো বলসোনারো ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন কে ব্যাননের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তখন ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ব্রাজিলে এক সমাবেশে বলেছিলেন, বাইরের শক্তি বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ওই অভিযোগ আরও আগে থেকে করে আসছিলেন বলসোনারো ও তার সমর্থকরা।
সম্প্রতি নিজের ওয়ার রুম পডকাস্টে ব্যানন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে কারচুপি হওয়ায় বলসোনারো লুলার কাছে হেরে যান। তিনি জোর দিয়ে এও বলেন, নির্বাচনে কাঠামোগত জালিয়াতির প্রমাণ তার হাতে এসেছে। ৮ তারিখ যখন বলসোনারোপন্থিরা ব্রাজিলের সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালায়, তখন তাদের ‘ব্রাজিলের মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন ব্যানন। দুই বছরের ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রাম্প ও বলসোনারো সমর্থকদের সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করছেন অনেকে। তাদের মতে, ট্রাম্পের গণতন্ত্রবিরোধী মতাদর্শ কীভাবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নয়, এর বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে, ব্রাজিলের ঘটনা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ট্রাম্প ও বলসোনারো দুজনই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। পশ্চিমা দেশগুলোর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তার পরও ব্রাজিলে ৮ জানুয়ারি যা হলো, তাতে স্পষ্ট, ট্রাম্পের মতাদর্শ কতটা গভীরভাবে বলসোনারোর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। গত কয়েক বছরে ব্রাজিল ছাড়াও ট্রাম্প সমর্থকরা হাঙ্গেরিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কট্টর ডানপন্থি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে, তা ভুললে চলবে না। ৮ জানুয়ারির আগে বলসোনারো প্রকাশ্যে সরকারি ভবনে হামলার ডাক দিয়েছিলেন, তা নয়। তবে তিনি আভাসে-ইঙ্গিতে বলেছিলেন, নির্বাচনে না জিতলে ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটলে হামলার চেয়েও ব্রাজিলে বড় ধরনের হামলা হতে পারে।
স্বস্তির বিষয় হলো, বলসোনারোকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে নামাতে সফল হন ব্রাজিলিয়ানরা। ট্রাম্পের মতো তিনিও পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন কিন্তু তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। বলসোনারোর নির্বাচনে পরাজয়ের কয়েক সপ্তাহ পর ব্রাজিলের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতারা তাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, অভ্যুত্থানে তারা সমর্থন দেবেন না। এমনকি বলসোনারোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের কয়েকজন তার পাশ থেকে সরে দাঁড়ান। এমতাবস্থায় বলসোনারোর সামনে আত্মসমর্পণ ছাড়া ভিন্ন পথ ছিল না। ব্রাজিলের বামপন্থি নেতা লুলা দা সিলভার নির্বাচনে জয় ও ক্ষমতা গ্রহণের সময়ের মধ্যে দেশটিতে বেশ কয়েকটি বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। বলসোনারো নির্বাচনের ফল মেনে না নেওয়ায় তার সমর্থকরা ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি সহিংসতায় রূপ নেয়। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলসোনারোপন্থিরা। তবে সময় যত যেতে থাকে, লুলার কাছে ক্ষমতা হস্তাস্তর অনিবার্য হয়ে পড়ে।
পরিকল্পনাহীন হামলা
১ জানুয়ারি লুলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ক্ষমতায় থাকাকালে প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ওঠে, সেগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেই চুপচাপ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চলে যান। সেখানে ডিজনি ওয়ার্ল্ডের কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে এ মুহূর্তে অবস্থান করছেন বলসোনারো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সুপারমার্কেটে কেনাকাটার পাশাপাশি কেনটাকি ফ্রায়েড চিকেনে (কেএফসি) নৈশভোজ করছেন তিনি। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যখন বলসোনারো অবসর সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক সে সময় তার নিজের দেশে তার সমর্থকদের সরকারি ভবনগুলোতে তাণ্ডব অনেকের কাছে অদ্ভুত ঠেকে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে, অভ্যুত্থান ঘটানোর কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তাদের ছিল না। তবে তাদের তাৎক্ষণিক একটি লক্ষ্য ছিল এবং সেটি হলো ওই মুহূর্তে ক্যাপিটল ভবনের ভেতর ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি দিতে যে যৌথ অধিবেশন চলছিল, তা ব্যাহত করা। ৮ জানুয়ারি ব্রাজিলের কংগ্রেস ভবন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সুপ্রিম কোর্ট ভবনে বলসোনারোপন্থিদের তাণ্ডবের দিকে তাকালে আমরা দেখব, ট্রাম্পের সমর্থকদের মতো তাদেরও অভ্যুত্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। বলসোনারোর সমর্থকদের হামলার সময় কংগ্রেস ভবন বা সুপ্রিম কোর্টে কোনো অধিবেশন চলছিল না। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও ছিল খালি। হামলার সময় রাজধানী শহর থেকে কয়েকশ মাইল দূরে ছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।
অপরাজেয় ইমেজ
ব্রাজিলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রায়ান উইন্টার বলেন, বলসোনারোর নির্বাচনের ফল খারিজ করার কৌশল শতভাগ ট্রাম্প দ্বারা অনুপ্রাণিত। বলসোনারো ও তার সমর্থকরা দেখেছেন, ২০২০ সালে কারচুপির অভিযোগ এনে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে সমর্থকদের দাঙ্গা-হাঙ্গামা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তেমন একটা দাগ ফেলতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে নিজের উপস্থিতি সরবে জানান দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি যদি সর্বক্ষণ বলতে থাকেন যে তিনি হারেননি, তাহলে অপরাজেয় ইমেজ নিয়ে রাজনীতি করে যাওয়া তার জন্য সহজ হবে এবং তিনি সেটাই করছেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ট্রাম্প, বলসোনারো, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান, ফ্রান্সের রাজনীতিক মারি লো পেনের মতো ডানপন্থি নেতাদের উত্থান তখনই ঘটেছে যখন দেশে দেশে সম্পদের বৈষম্য প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে, বিভিন্ন জাতি ও লিঙ্গের মানুষের সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে, ব্যাপক আকারে সব দিক থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মানুষ। এসবের সরাসরি ফলাফল ডানপন্থি লোকরঞ্জনবাদী নেতাদের উত্থান। মার্কিন দার্শনিক নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘নয়া-উদারবাদী যুগে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পতন ডানপন্থি লোকরঞ্জনবাদের ক্ষেত্র নির্মাণ করে। যখন পুরাতনের মৃত্যু হয় এবং নতুন কিছু সৃষ্টি হতে পারে না, তখনই সমাজে বিবিধ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।’
