র্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মানবাধিকারের পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হওয়ায় র্যাবের বিরুদ্ধে আর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বাংলাদেশ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আনিসুল হক।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘লুর সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি (লু) বলেছেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তিনি এ কথাও বলেছেন, তারা আরও নির্দেশনা দিতেন। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞার পরে র্যাব অনেক ভালো কাজ করেছে। এই যে মানবাধিকারের বিরাট উন্নতি, সে কারণে র্যাবের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা তারা দেয়নি।’ র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে লুর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আইনি একটা পদ্ধতি আছে। আমরা কিন্তু আইনের সেই পদ্ধতি অনুযায়ী এগোচ্ছি। আশা করি আইনি পদ্ধতির মাধ্যমে র্যাবের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।’
আনিসুল হক বলেন, লু অনেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, বিরোধী দলের সঙ্গেও কথা বলেছেন। অনেক কিছু জানতে চেয়েছেন। শ্রমিক আইন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি, ‘১৯৯০, ১৯৯৬ সালে এটি কেন হয়েছিল। তারপর হাইকোর্ট, আপিল বিভাগের রায় হয়েছে। সংবিধান সংশোধন হয়েছে। এখন আর সেই সুযোগ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) নেই।’ এক প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘উনি (লু) কিন্তু বলেন নাই যে নির্বাচন এইভাবে-ওইভাবে হতে হবে। উনি যেটা বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণ হোক এটা যুক্তরাষ্ট্র চায়। এখন গণতন্ত্র উত্তরণের যে পদ্ধতিগুলো তা ব্যবহার হোক সেটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এজলাসে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের অশালীন আচরণ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিবাদ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি সমাধান না হলেও প্রশমিত হয়েছে। খুব শিগগির সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
