বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগতীরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনে থাকছেন ভারতের দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারী মুসল্লিরা।
দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা গতকাল বুধবার থেকেই ময়দানে আসতে শুরু করেছেন।
ইজতেমার প্রথম পর্ব আয়োজন করেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা। গত শুক্রবার শুরু হয়ে তাদের আয়োজন শেষ হয় রবিবার। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা ময়দান গাজীপুর জেলা প্রশাসনের হাতে বুঝিয়ে দিয়ে তারা চলে যান। পরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ময়দান বুঝে নেন মাওলানা সা’দ অনুসারী মুরব্বিরা।
বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম জানান, ইজতেমা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি খিত্তায় গ্যাসের চুলাসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে তা বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি ময়দানে হাজির হবেন। বুধবার রাতের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে নির্দিষ্ট খিত্তায় অবস্থান নিতে যাচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াতে তাবলিগে ছিলেন। এ পর্বের ইজতেমায়ও বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে মুসল্লিরা যোগ দিচ্ছেন। এ জন্য পুরো ইজতেমা ময়দানকে ৮৫টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ধারাবাহিকভাবে চলবে তিন দিনের ইজতেমার সব কার্যক্রম। রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পর্বের ইজতেমা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুুলিশ বিভাগ ১৪টি কন্ট্রোলরুম তৈরি করেছে। র্যাবের কন্ট্রোলরুম থাকবে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাদের এলাকায় কন্ট্রোলরুম খুলবে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), নৌপুলিশ, অবজারভারভেশন টিম থাকবে, র্যাবের হেলিকপ্টার টহল থাকবে। ডগ স্কোয়াড টিম, মোবাইল প্যাট্রল টিম, বোম ডিস্পোজাল টিম থাকবে। আখেরি মোনাজাত ও জুমার নামাজ যাতে মুসল্লিরা সুষ্ঠুভাবে অংশ নিতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ৫৫তম বিশ^ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি।
