জলে-স্থলে সর্বত্র মাইক্রোপ্লাস্টিক বিরাজমান। সবজি এবং ফলও এর থাবা থেকে মুক্ত নয়। গাজর, মুলা, শালগমসহ অন্যান্য মূল জাতীয় সবজিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রাণিজগতের জন্য হুমকি মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
সব জায়গায় প্লাস্টিক
পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাবে না। অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরের ওপর ভেসে বেড়ানো বরফ থেকে শুরু করে খাবার পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পৌঁছে গেছে। সামুদ্রিক প্রাণীর পেটেও এই প্লাস্টিক পান বিজ্ঞানীরা। মাইক্রোপ্লাস্টিক আসলে কী? প্লাস্টিকের পণ্য উৎপাদনের সময় যে ছোট ছোট প্লাস্টিকের টুকরো পাওয়া যায়, তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক। এ ছাড়া বড় প্লাস্টিক ভেঙেও এই ধরনের প্লাস্টিক তৈরি হয়। দূরবর্তী দ্বীপ যেখানে কোনো মনুষ্যবসতি নেই, সেখানকার সৈকতও মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে মুক্ত নয়। বিশ্বের পাঁচটি মহাসাগরের উপরিভাগে প্রায় ২৪.৪ ট্রিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে সম্প্রতি এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়। অবশ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক যে শুধু পৃথিবীর জলভাগে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নয়। স্থলভাগে এমনকি খাবারেও মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে গেছে। নিজের অজান্তেই মানুষ প্রতিদিন প্লাস্টিকের টুকরো খাচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, ক্ষতিকর এই পদার্থ মানবদেহে প্রবেশ করে কীভাবে। ২০২২ সালে মার্কিন পরিবেশবিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ মিলিয়ন একর ফসলি জমি দূষিত করছে পার অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) বহনকারী সুয়েজ স্ল্যাজ বা আধা তরল বর্জ্য। ড্রেনের ময়লাপানি থেকে দূষিত পদার্থ বের করার সময় উপজাত হিসেবে বর্জ্যপানি শোধনাগারে যা উৎপন্ন হয়, তাই সুয়েজ স্ল্যাজ। আর পিএফএএস মূলত প্লাস্টিকে থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এটি ভাঙে না। সুয়েজ স্ল্যাজ ধ্বংস করা ব্যয়বহুল হওয়ায় ও এর মধ্যে পুষ্টিগুণ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এটি জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন টন সুয়েজ স্ল্যাজ উৎপাদিত হয় ইউরোপের দেশগুলোতে এবং এর প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে ইউরোপের কৃষিজমিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাইক্রোপ্লাস্টিকের আধার বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাদের এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রতি বছর ৩১ থেকে ৪২ হাজার টনের মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক মহাদেশটির কৃষিজমিকে দূষিত করছে। ওই গবেষকরা গবেষণার একপর্যায়ে জানতে পারেন, সাউথ ওয়েলসের প্রতিটি বর্জ্যপানি শোধনাগারে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৬৫০ মিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিকের দৈর্ঘ্য এক থেকে পাঁচ মিলিমিটার। পরে এই বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের জায়গা হয় সুয়েজ স্ল্যাজে।
দীর্ঘস্থায়ী মাইক্রোপ্লাস্টিক
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইড্রো-এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর ও ওই গবেষণা দলের সদস্য ক্যাথরিন উইলসন বলেন, ‘ইউরোপের কৃষিজমিতে যে পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে আমরা জেনেছি, তা সম্ভবত সঠিক নয়। আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে আছে। এটি এত ছোট যে খালি চোখে আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না। এ কারণে এটির সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করাও দুরূহ।’ মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কিত আরেকটি তথ্য বেশ উদ্বেগজনক। এটি কৃষিজমিতে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। জার্মানির ফিলিপস-ইউনিভার্সিটি মারবার্গের মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, তারা দুটি কৃষিজমিতে মাটির নিচে সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পান। ওই দুই জমিতে ৩৪ বছর আগে সার হিসেবে সুয়েজ সøাজ ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি জমি দুটির যেখানে সার দেওয়া হয়নি, সেখানেও চাষের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ে।
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলের প্রধান ও হাইড্রো-এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের পিএইচডি শিক্ষার্থী জেমস লফটি বলেন, ইউরোপের কৃষিজমিতে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক আর মহাসাগরের উপরিভাগে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ একই। গবেষক উইলসন ও লফটির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে। লফটি বলেন, সুয়েজ স্ল্যাজ সার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় মহাসাগরে প্লাস্টিকের দূষণের সমস্যা আরও বেড়ে গেছে কারণ মাইক্রোপ্লাস্টিক শেষ পর্যন্ত পানিতে গিয়ে মেশে। বৃষ্টির পানির কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ জমির ওপরের স্তরের অন্যান্য উপাদান নদীতে গিয়ে পড়ে বা ভূগর্ভে প্রবেশ করে। নদী বা মহাসাগর মূলত এভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের শিকার হয়। কানাডার একদল গবেষক তাদের গবেষণাপত্রে জানান, নদী বা সাগরে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৯৯ শতাংশই সেসব জমি থেকে আসে যেখানে কোনো না কোনো সময়ে সুয়েজ সøাজ সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিবেশগত দূষণ
লফটি বলেন, ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক শোষণ করতে পারে। সেসব রাসায়নিক মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাধ্যমে কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর ঘটনাটি ঘটে নদী বা সাগরে যাওয়ার আগেই। যুক্তরাজ্যের এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়োক্সিন, পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনসহ অন্যান্য পদার্থ যুক্তরাজ্যের কৃষিজমি দূষিত করতে ভূমিকা রাখে। মানব শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব পদার্থ সুয়েজ সøাজে থাকে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ ম্যারি বেথ কারখাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক উদ্ভিদে প্রবেশে ভূমিকা রাখে প্লাস্টিক। তিনি বলেন, জমিতে ক্যাডমিয়ামযুক্ত প্লাস্টিক থাকলে উদ্ভিদে ওই রাসায়নিক পাওয়া যায়। এটি বেশি ঘটে গমের ক্ষেত্রে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, কেঁচোসহ জমির জন্য উপকারী প্রাণীর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এমনকি এটির কারণে প্রাণীদের ওজনও কমে যায়। ঠিক কী কারণে ওইসব প্রাণীর ওজন কমে যায়, তা সঠিকভাবে জানা যায়নি তবে ধারণা করা হয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রাণীর হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে। এ কারণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা তাদের কমে যায়। গবেষকদের মতে, কেঁচোসহ অন্যান্য প্রাণীর ওজন ও বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ায় পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কারণ এসব প্রাণী মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ত করার মাধ্যমে প্রাণীগুলো অক্সিজেন প্রবেশ, ভাঙন প্রতিহত, পানি চলাচলসহ মাটির অনেক উপকার করে।
প্লাস্টিকের টুকরো খাদ্যশস্য সরাসরি দূষিত করতে পারে। ২০২০ সালে ইতালির সিসিলি অঞ্চলের ক্যাটানিয়া পৌরসভায় সুপারমার্কেটের সবজি ও ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ওইসব ফলের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত ফল ছিল আপেল এবং সবজির মধ্যে গাজরে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল টক্সিকলজি অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি বিভাগের অধ্যাপক উইলি পাইনেনবার্গ তার গবেষণাপত্রে বলেন, শেকড়ের ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আশপাশের পানি ও মাটি থেকে ন্যানোপ্লাস্টিকের কণা শোষণ করে। এসব কণার আকার মানবদেহের একটি রক্ত কোষের থেকে শত শত গুণ ছোট। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জেনেছেন, উদ্ভিদের শেকড়েই বেশির ভাগ প্লাস্টিক জমা হয়। খুব কমসংখ্যক প্লাস্টিক শেকড় থেকে অঙ্কুর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অধ্যাপক উইলি পাইনেনবার্গ বলেন, উদ্ভিদের পাতায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্বের হার এক শতাংশের কম। লেটুস, বাঁধাকপির মতো পাতা-জাতীয় সবজিতে প্লাস্টিকের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে গাজর, মুলা, শালগমসহ অন্যান্য মূল জাতীয় সবজিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ থাকে বেশি।
ডাচ অধ্যাপক উইলি পাইনেনবার্গ ও তার সহকর্মীরা তাদের আরেক গবেষণাপত্রে জানান, লেটুস ও গমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব আশপাশের মাটি থেকে ১০ গুণ কম। এ বিষয়ে পাইনেনবার্গ বলেন, ‘ফল ও সবজি মাইক্রোপ্লাস্টিকের সবচেয়ে ছোট কণা শোষণ করে, বড় কণাগুলো তারা শোষণ করতে পারে না। অবশ্য বেশির ভাগ মাইক্রোপ্লাস্টিক একপর্যায়ে ভেঙে ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। তখন তাদের শোষণ করতে উদ্ভিদের সমস্যা হয় না।’ পাইনেনবার্গের গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়, প্লাস্টিকের কণা শোষণ করার কারণে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি। ফল ও সবজি মাইক্রোপ্লাস্টিক শোষণ করায় মানব স্বাস্থ্যের ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর জন্য আরও গবেষণার দরকার বলে মনে করেন পাইনেনবার্গ। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে কয়েক দশক লেগে যাবে।
কৃষিজমিতে সুয়েজ স্ল্যাজ সার হিসেবে ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেনি। তবে আগামীতে যে করবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ কারণে কৃষিজমিতে এ ধরনের সারের ব্যবহার ঠিক নয়।’
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত সবজি ও ফল মানুষের শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি নাসে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানা না গেলেও এ ধরনের খাবার ক্ষতিকর হতে পারে বলে কয়েকটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়। সবাই জানেন, প্লাস্টিক উৎপাদনের সময় রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিক মানবদেহের এন্ডোক্রাইন সিস্টেম ব্যাহত করতে পারে এবং শারীরিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা হরমোনের কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকে পাওয়া রাসায়নিক ক্যানসার, হৃদরোগসহ আরও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, সবজি ও ফলের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক যদি উচ্চমাত্রায় মানবদেহে প্রবেশ করে, তাহলে কোষের ক্ষতি হতে পারে। এতে অ্যালার্জিসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বছরখানেক আগে হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মানবকোষে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা গবেষণাপত্রে জানান, খাবার পানি, সামুদ্রিক খাবার ও লবণের মাধ্যমে যে পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে, তার কারণে কোষের মৃত্যু হতে পারে।
গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক ও হাল ইয়র্ক মেডিকেল স্কুলের গবেষক ইভানজেলস ডেনোপোলোস বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষের দেয়াল ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি এটি টিস্যুরও ক্ষতি করতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে কোষের দেয়াল ভাঙে, এ নিয়ে দুটি তত্ত্ব আছে। একটি হলো, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ধারালো প্রান্ত কোষের দেয়াল ভেঙে দিতে পারে আর দ্বিতীয় তত্ত্বটি বলে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের রাসায়নিক দেয়াল ভাঙতে সহায়তা করে। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে জানা যায়, যেসব মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকার জটিল, সেসব কোষের মৃত্যু ঘটায় বেশি। গবেষক ডেনোপোলোস বলেন, ‘আমাদের বোঝা দরকার, আমাদের শরীরে কী পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে এবং তাদের আকার-আকৃতি কেমন। জটিল আকৃতির বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।’ খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিক যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা বেশি জরুরি বলে মনে করেন ডেনোপোলোস। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জানি, সুয়েজ স্ল্যাজে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে এবং মাটি থেকে সেসব প্লাস্টিক শোষণ করার ক্ষমতা উদ্ভিদের আছে, তাহলে সুয়েজ স্ল্যাজকে কি আমাদের সার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত?’
