যুক্তরাষ্ট্র তার সক্ষমতার সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ নিয়ে ফেলেছে। যেকোনো মুহূর্তে দেউলিয়া হতে পারে দেশটি। এ অবস্থায় দেউলিয়াত্ব এড়াতে এরই মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ত্বরিত ‘অসাধারণ’ কিছু উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন বৃহস্পতিবার হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থির কাছে লিখিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিঠিতে ইয়েলেন বলেছেন, নতুন করে সব ঋণ কার্যক্রম স্থগিতাদেশের মেয়াদ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। চলবে আগামী ৫ জুন পর্যন্ত। এ সময় অর্থ বিভাগ সিভিল সার্ভিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রতিবন্ধী তহবিলের অংশ পুরোপুরি বিনিয়োগ করতে পারবে না। ট্রেজারি বিভাগ পোস্টাল সার্ভিসের অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্য সুবিধা তহবিলে পরিমাণের অতিরিক্ত বিনিয়োগ স্থগিত করবে। তবে অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা এর কারণে প্রভাবিত হবে না।
ইয়েলেন গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে ‘ঋণ সীমা বাড়ানো বা স্থগিত করার জন্য একটি সময়োপযোগী পদ্ধতিতে কাজ করার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ এটি করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো দেউলিয়াত্বের মুখে পড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। এরই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউজ শুক্রবার কংগ্রেসকে ‘শর্ত ছাড়াই’ ঋণের সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ নেওয়ার অর্থ হলো, দেশটির কংগ্রেস বৈদেশিক-দেশি ঋণ নেওয়ার সীমা বেঁধে দিয়েছিল তা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। জ্যানেট ইয়েলেন জানিয়েছেন, দেশটির মোট ঋণ এখন ৩১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। তিনি ম্যাককার্থিকে লেখা চিঠিতে বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে কংগ্রেসকে অনুরোধ করছি যেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ বিশ্বাস ও কৃতিত্ব রক্ষার জন্য অবিলম্বে কাজ শুরু করা হয়।’ প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র কখনো ঋণখেলাপি হয়নি। তবে গত ২৫ বছরে মধ্যে অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটি প্রায় প্রতি বছরই ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়েই গেছে। এ সময়ের মধ্যে দেশটি অন্তত ২২ বার সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়ার সীমা বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউজের এক সিনিয়র কর্মকর্তার মতে, এপ্রিলের মাঝামাঝি করের সময়সীমার পরে ঋণের সীমা বাড়ানোর নতুন একটি বিলের জন্য আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেবে।
স্পিকার ম্যাকার্থি অবশ্য মেডিকেয়ার এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো প্রোগ্রাম কাটছাঁটের আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু রিপাবলিক সাংসদও ঋণের সীমা বাড়ানোর আগে ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে একমত।
