বিমান অফিসের ভেতরেই এখন আলোচনা হচ্ছে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বিমানের পুরো প্রশাসন। কাজের মধ্যেও নেই জবাবদিহি। যে যার মতো পারছে পরিচালনা করছে সংস্থাটি। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরও অনেকেই বহাল তবিয়তে আছেন। ড্রিমলাইনার এয়ারলাইনসগুলো পুরো সিসিক্যামেরা দ্বারাই মনিটরিং করা হয়। অথচ আসন, হাতল এবং মনিটর ভাঙা হলেও ‘জড়িত কারা’ তা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এভাবে চললে বিমানকে ‘ওপরে’ ওঠানো সম্ভব হবে না কিছুতেই।
বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ফ্লাইটে দুই যাত্রীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এক যাত্রী পাগলামি করা শুরু করলে তাকে রশি দিয়ে পর্যন্ত বাঁধা হয়েছিল। শাহজালালে হ্যাঙ্গারে দুটি উড়োজাহাজে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছ কয়েক মাস আগে। বার্ড হিটের শিকার হয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পড়ে ছিল একটি উড়োজাহাজ। এমনকি গত বছরের ২৬ মার্চ টরন্টো ফ্লাইট নিয়ে অনেকটা তুলকালাম কা- ঘটেছে। বিমান ও মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা টরন্টো সফর করে এসে জানিয়ে দিয়েছেন, সরাসরি ফ্লাইট চালানো সম্ভব হবে না। সফরে বিশাল বহর নিয়ে যাওয়ার কারণে অন্তত ৮ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। সব মিলিয়ে গত দুই বছরে নানা কারণে সংস্থাটির অন্তত ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জানতে চাইলে বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিমানকে লাভজনক করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। বিমানের আসন ও মনিটর ভাঙার সঙ্গে কারা জড়িত আছে তা উদঘাটন করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবেই।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, কোনো নিয়মের মধ্য থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না বিমান। বিমানের বহরে রয়েছে অভিজাত সব এয়ারক্রাফট। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার নেই কোনো ঘাটতি। এমনকি ভুগতে হয়নি কোনো অর্থের অভাবও। এরপরও বিশ্বমানের এয়ারলাইনস হওয়ার দৌড়ে বহু পিছিয়ে আছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটি।
বছরখানেক আগে বেশি লাভের আশায় উড়োজাহাজে কার্গো পরিবহন করতে গিয়ে সিটসহ নানা যন্ত্রাংশ নষ্ট করে ফেলে সংস্থাটি। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল দেশ-বিদেশে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে আরেকটি ড্রিমলাইনারে ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-টরন্টো রুটে চলা বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের কয়েকটি আসনের বিভিন্ন অংশ ও টিভির মনিটর ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে সবচেয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এয়ারক্রাফট। ক্ষতিগ্রস্ত ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজটি এখন কানাডার টরন্টোতে রয়েছে। সেখান থেকেই ১৭ জানুয়ারি বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুঁজছে বিমান। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রিমলাইনারের ভেতরের কিছু ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজটির কয়েকটি আসনের হাতল, আসনের সামনের এলইডি স্ক্রিন, আসনের প্যানেল ও রিমোট ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। আবার একটি আসনের দুই পাশের হাতল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আসনের নিচের প্যানেলও ভেঙে গেছে। ওই আসনে যুক্ত এলইডি মনিটরটিও টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। বাঁকা হয়ে ঝুলে আছে এলইডি মনিটর। আসনের নিচে গ্লাস, চামচ, কম্বল সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উড়োজাহাজের আসন ও মনিটর যারা ভেঙেছে, তাদের কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভাঙার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে খারাপ উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে। এই আক্রোশ বিমানের ওপর নাকি দেশের ওপর, তা বোঝা মুশকিল। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। আশা করি যারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিমানকে লাভজনক করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিমান গন্তব্য যাওয়াসহ যাত্রীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়, সেদিকে আমরা মনোযোগ দিয়েছি। বিমানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।’
