২০২৩ সালের জন্য ২১ ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত বছরও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারের সংখ্যা ছিল ২১। সংখ্যাটা ঠিক থাকলেও পরিবর্তন এসেছে বেশ কয়েকটি। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটসম্যান জাকির হাসান ও ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ। জায়গা হারিয়েছেন, ইয়াসির আলি, মাহমুদুল হাসান জয়, নাইম শেখ ও সাদমান ইসলাম। তিন সংস্করণের বদলে শুধু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন শরিফুল ইসলাম। মাহমুদউল্লাহ বাদ পড়েছেন টি-টোয়েন্টির চুক্তি থেকে।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটাররা গ্রেড ভেদে মাসিক বেতন পান। অঙ্কটা ৪ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। একাধিক সংস্করণের চুক্তিতে থাকলে সর্বোচ্চ সংস্করণের বেতনের সঙ্গে অন্য দুই সংস্করণের আংশিক বেতন পান ক্রিকেটাররা। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিসিবি নিয়েছে ২১ ক্রিকেটারকে, তাদের মধ্যে ৪ জন আছেন তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০২২ সালটা ব্যাটে-বলে দারুণ কাটানো মিরাজ এই বছর পেয়েছেন তিন সংস্করণের কেন্দ্রীয় চুক্তি, গত বছর মিরাজ ছিলেন শুধু ওয়ানডে এবং টেস্টে। তিন সংস্করণের চুক্তি থেকে জায়গা হারিয়েছেন বামহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। মুশফিকুর রহিম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন, তাই বিশ ওভারের ক্রিকেটের চুক্তি থেকে বাদ গেছে তার নাম। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি টি-টোয়েন্টি ছাড়ার, তবে ২০২২ সালের এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপ দলে তাকে রাখেননি নির্বাচকরা। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট বার্তাটা, সাবেক টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আর নেই, তাই টি-টোয়েন্টির চুক্তিতেও নেই মাহমুদউল্লাহ।
নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বছরের মাঝামাঝি আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা নামগুলো মূল্যায়ন করবে নির্বাচক প্যানেল, ‘আমরা ৬ মাস পর আবার চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করব, তখন আবার নতুন করে হয়তো কাউকে চুক্তিবদ্ধ করা হতে পারে বা অন্য সংস্করণেও চুক্তিভুক্ত করা যেতে পারে।’
শরীফুল ইসলাম তার ৫ টেস্টের ক্যারিয়ারের ৪টিই খেলেছেন ২০২২ সালে। ৫ ইনিংসে উইকেট পেয়েছেন মাত ৭টি। হাবিবুল জানালেন পারফরম্যান্সের জন্যই শরীফুল জায়গা হারিয়েছেন টেস্টের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে। ইবাদত হোসেন শুরুতে টেস্ট বোলার হিসেবেই পরিচিতি পেলেও গত বছর ৪টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন। তবে এবারও এবাদত আছেন শুধু টেস্টের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। এই প্রসঙ্গে হাবিবুল বলেছেন, ‘ভালো করলে অন্য সংস্করণের চুক্তিতে আসার তো সুযোগ আছে। আমরা আগে দেখি ৬ মাস সে কেমন করে।’
ইয়াসির আলি রাব্বি গত বছর ছিলেন টেস্টের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে, যদিও ব্যস্ততা বেশি ছিল ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতেই। মাঠের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল না তার, তাই এই বছর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন চট্টগ্রামের এই ব্যাটসম্যান। জায়গা হারিয়েছেন নাঈম এবং সাদমানও। অন্যদিকে গত বছর শুধু টেস্টের চুক্তিতে থেকেও ১১ টি-টোয়েন্টি ও ৭ ওয়ানডে খেলা নাজমুল হোসেন শান্ত এবার টেস্টের সঙ্গে টি-টোয়েন্টির কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও আছেন। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুই সংস্করণের চুক্তিতে আছেন আরও একজন, নুরুল হাসান সোহান।
মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম; দুজনই শুধু টেস্ট সংস্করণের চুক্তিতে জায়গাটা ধরে রেখেছেন। এবাদতের সঙ্গে শুধু টেস্টের চুক্তিতে আছেন সিলেটের আরেক পেসার খালেদ আহমেদ। তাদের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের আরেক ক্রিকেটার জাকির হোসেন জায়গা পেয়েছেন টেস্টের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। ভারতের বিপক্ষে অভিষেকেই শতরান করা জাকিরের ওপরই নির্বাচকদের বেশি আস্থা, যে কারণে বাদ গেছেন সাদমান ইসলাম।
মোসাদ্দেক হোসেন কোনো কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকেও ২০২২ সালে ১৭ টি-টোয়েন্টি, ১ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডে খেলেছেন, এবার অবশেষে নির্বাচকরা তাকে নিয়েছেন। শুধুই টি-টোয়েন্টির চুক্তিতে আছেন মোসাদ্দেকসহ আরও ৩ জন; নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদি হাসান ও হাসান মাহমুদ।
২০২৩ সালে কমপক্ষে ২৭টি ওয়ানডে, ৫টি টেস্ট ও ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এর ভেতর আছে ওয়ানডের বিশ্বকাপও, যা হবে অক্টোবর নভেম্বরে। তবে এখনো জাতীয় দলের প্রধান কোচ চূড়ান্ত করেনি বাংলাদেশ। যদিও ভেতরে ভেতরে পাকা কথা হয়ে আছে চন্দিকা হাতুরুসিংহের সঙ্গে, এমনটাই আভাস। হাতুরুসিংহে আসলে হয়তো আরেক দফা ভোল বদল হতে পারে কেন্দ্রীয় চুক্তির, সেজন্যই বোধ হয় ৬ মাসের একটা জানালা রেখেছেন নির্বাচকরা।
মার্চেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর আসবে আয়ারল্যান্ডও। ৬ মাসের ভেতর নিশ্চয়ই হাতুরুসিংহে বুঝে যাবেন, কার নামটা রাখতে হবে আর কোন নামটা ছাঁটতে হবে।
