মাগুরায় স্কুলছাত্রের পায়ে পেরেক মেরে নির্যাতন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:২১ এএম

মাগুরার শালিখা উপজেলায় চোর সন্দেহে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর (১২) পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হাসান নামে এক দোকানিকে আটক করেন পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে ছান্দড়া গ্রামের একটি মসজিদে যায়  সে। এ সময় ওই গ্রামের মুদি দোকানদার হাসান তাকে আটক করে দোকানে নিয়ে চোর সন্দেহে নির্যাতন করেন। তাকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি ঘরে আটকে হাসান ও তার সহযোগীরা পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে। পরে খবর পেয়ে শালিখা থানা পুলিশের সহায়তায় সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফাহমিদা জামান স্নিগ্ধা জানান, আহত ওই শিক্ষার্থীর পায়ে ও শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর চাচা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েক দিন আগে ছান্দড়া চৌরাস্তার পাশে একটি দোকানে চুরি হয়। ওই ঘটনায় চোর সন্দেহে তার ভাতিজাকে আটক করে পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে নির্যাতন করেন মুদি দোকানি হাসান। নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়।

শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার ফাহমিদা জামান স্নিগ্ধা জানান, সজীবের অবস্থা গুরুতর, তার পায়ে ও শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শালিখা থানার ওসি মোহাম্মদ বিশারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুরি করেছে সন্দেহে ওই ছেলেটিকে নির্যাতন করা হচ্ছেÑ এমন সংবাদের ভিত্তিতে শালিখা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দোকান মালিক হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনায় ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় হাসানকে দণ্ডবিধির ১৫১ ধারায় (দাঙ্গা, মারামারি) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত