পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি বলেছেন, ‘কিছু মানুষ অন্যের ভালো না চাওয়া। ওপরে ওঠানোর চেষ্টা কেউ করেন না, শুধু নামানোর চেষ্টা করেন’। কূটনীতিক তৌহিদুল ইসলাম প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তৌহিদুল ইসলাম ভেরি গুড অফিসার ও তুখোড় ছেলে। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আমাদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে রয়েছেন। তাকে আমরা ভিয়েনাতে দিতে চাই। কিন্তু অস্ট্রিয়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাকে নাকচ করেছে। এর পেছনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তৌহিদুলের সহকর্মীরা জড়িত। তবে আমি যদ্দিন আছি তার পক্ষ অবলম্বন করে যাব, আই উইল ডিফেন্স হিম’।
ড. মোমেন বলেন, ‘তৌহিদুল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছিল। সে তার ব্যাচের ফার্স্ট বয় ছিল। তুখোড় ছেলে, অত্যন্ত ভালো। এখন ওরে টেনে কীভাবে নামানো যায়, তার জন্য তার মন্ত্রণালয়ের লোকজন, তারই বন্ধুবান্ধব কন্টিনিউয়াসলি চেষ্টা করছে। তার শত্রু আছে। সে যখন মিলানে কনসাল জেনারেল ছিল, তখন কোনো একটা মেয়েকে তার পেছনে লাগিয়ে দিয়ে কেলেঙ্কারির চেষ্টা করে। তখন তাকে সাসপেন্ড করা হয়, অনেক ইনভেস্টিগেশন করা হয়, পরে দেখা যায় অভিযোগ একেবারে বানোয়াট। এরপর তার প্রমোশন হয়। এখন তার বিরুদ্ধে আবার লাগছে একদল, তারই বন্ধুবান্ধব হবে, না হলে পত্রিকায় এগুলো গেল কীভাবে?’
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটের চানপুর এলাকায় সুরমা নদীর খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, মানুষের দুর্গতি নিরসনে সুরমা নদী খনন শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্যার ভয়াবহতা ও নদীভাঙন রোধ হবে বলে আশা করছি।
খননকাজ উদ্বোধনকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম শহিদুল ইসলাম জানান, প্রথম দফায় সিলেটের কুশিঘাট থেকে লামাকাজি সেতু পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। খননের ফলে সুরমা নদীর নাব্যতা বাড়বে এবং বর্ষায় নদীর কূল উপচে সিলেট প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
