নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ছে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী মাস থেকে কার্যকর হওয়া গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এর ফলে বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য গ্যাসের যৌক্তিক মূল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
গতকাল রবিবার বিজিএমইএ চট্টগ্রাম ভবনের মাহবুব আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এমন দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে এই দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পের ব্যয় বৃদ্ধির এ ভার বহনের সক্ষমতা শিল্পোদ্যোক্তাদের নেই।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, খাতভিত্তিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারকে দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের অবদানের কথা বিবেচনা করে এ খাতকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। গ্যাস আমদানির ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার, গ্যাস সঞ্চালনে সিস্টেম লস কমিয়ে আনা, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। সেই সঙ্গে শিল্পের জন্য গ্যাসের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় দেশের পোশাক রপ্তানির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ডেনিমের ক্ষেত্রে চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ প্রথম অবস্থানে উঠেছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ শিগগিরই শীর্ষ স্থানে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমাদের পোশাক কারখানাগুলো কেবল নিরাপদই নয়, বরং আরও গতিশীল, আধুনিক, জ¦ালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠেছে। আমাদের এখন ১৮৩টি লিড গ্রিন কারখানা রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ৬০টি প্ল্যাটিনাম এবং ১০৯টি গোল্ড ক্যাটাগরির। ২০২২ সালে ৩০টি কারখানা গ্রিন হয়েছে। কোন একক বছরে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রিন কারখানার সংখ্যা। গ্রিন কারখানার সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য বিজিএমইএ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
