বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কথায় কথায় বলে, আজও বলেছে (আওয়ামী লীগ নেতারা) আমাদের গণতন্ত্র আমাদের মতো করে করব। গণতন্ত্র এখন তাদের হয়ে গেছে। কোন গণতন্ত্র? সেই মুজিববাদের গণতন্ত্র, বাকশালের, একদলীয় শাসনব্যবস্থার গণতন্ত্র। না, এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না। সত্যিকার অর্থে জনগণের গণতন্ত্র এবং মুক্ত বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আন্দোলন, সংগ্রাম শুরু হয়েছে। অবশ্যই এই সংগ্রামে আমরা জয়ী হব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
গতকাল রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে শহীদ আসাদ পরিষদের উদ্যোগে ‘৬৯ সালে শহীদ আসাদুজ্জামান ৫৪তম শাহাদাত দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ ও বর্তমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে ছড়িয়ে দিতে হবেÑ কীভাবে একজন মানুষ দেশের মানুষকে ভালোবাসলে, দেশকে ভালোবাসলে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে উঠলে আত্মত্যাগ করতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করে না। কোনো দুর্ঘটনার জন্য নয়, একেবারে পুরোপুরি সচেতনভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে মিছিলের মধ্যেই মানুষটি প্রাণ দিয়েছিলেন। এবারও আন্দোলনে আমাদের ১৫ জন কর্মী পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন রাস্তায়। সেজন্য আমি অনেক বেশি আশাবাদী। আজ আন্দোলনে শুধুমাত্র আমরা নই, আমাদের সঙ্গে কিন্তু সব দল আছেÑ যারা দেশকে ভালোবাসে। রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আমাদের আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এদের পরাজিত করতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেকে বলেন রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য, কভিডের জন্য দাম বেড়েছে। আর যে চুরিটা, ডাকাতিটা করেছেন সেটার পার্থক্য হিসাব করেন। গ্যাসের চুরিটা বন্ধ করলে দামটা কমিয়ে নিয়ে আসা যেত।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষের মধ্যে লড়াই করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ১০ ডিসেম্বরের পর আমরা যুগপতের কথা বলেছি। সমস্ত রাজনৈতিক দল এখন কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনো ফরমেটে কমন একটা লক্ষ্যে একসঙ্গে লড়াই করছে। এটা একটা বিজয়ের চিহ্ন তো বটে। এখন বিরোধী দল আন্দোলন করে আর ওরা (আওয়ামী লীগ) পাহারা দেয়। একসময় পাহারা দেওয়ার লাঠিও হাতে থাকবে। আবার এক সময় দেখবেন পাহারা দেওয়ার মানুষও সব উদার হয়ে যাবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সাধারণ মানুষ আজ নাভিশ্বাস অবস্থায় আছে। তারা আবার দিন গুনছেন কবে, সেই দিন কবে আসবে। কবে আরেকটি ২৪ জানুয়ারি তৈরি হবে। ঢাকাসহ সারা দেশের রাজপথ জনতার উত্তাল ঢেউয়ে প্রকম্পিত হবে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে ও হাবিবুর রহমান রিজুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ আসাদের ছোট ভাই নুরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে গতকাল রবিবার বিকেলে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু স্বাধীন দেশে আমরা গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনে দরকার নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার। এ লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আন্দোলনে রয়েছি। হয় আমরা মরব, না হয় দাবি আদায় করব। সুতরাং আগামীতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, জয়নুল আবদিন ফারুক, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
