দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া সম্প্রতি কলকাতার ‘বিবাহ অভিযান ২’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। প্রতিবারের মতো এবারের শীতেও তাই ঢাকায় অবসর কাটাচ্ছেন। এরইমধ্যে খবর এলো, ‘পটাকা’, ‘আমি চাই থাকতে’ ও ‘হাবিবি’র পর আসছে তার গাওয়া নতুন গান। এ বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গানটির কাজ খুব বেশি এগোয়নি। আমার পরিকল্পপনা আছে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মিউজিক ভিডিওর কাজ করার। তার আগে মিউজিক, রেকর্ডিং ও মিক্সিংয়ের কাজ হবে। এবার তো মার্চে রোজা শুরু হচ্ছে। আমার ইচ্ছা আছে এপ্রিলে ঈদুল ফিতরে গানটি মুক্তি দিতে। চাঁদ রাতকেই টার্গেট করছি। কারণ আমার গানটি হবে উচ্ছ্বাস আনন্দের গান। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে গানটি এলে দর্শক বেশি আনন্দ পাবেন বলে আমার ধারণা।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গানটির নাম আসলে ‘চিল’ নয়। আমি বোঝাতে চেয়েছি, আমার নতুন গানটি হবে ফান চিলিং সং। সেটিকেই অনেকে ‘চিল’ নাম দিয়ে ফেলেছে। তাতে অসুবিধা নেই। গানটি ভুল নামে প্রচারণা হলেও দিনশেষে মানুষজন গানটি নিয়ে জানতে পেরেছে, কথা বলছে, অপেক্ষা করছে। আসলে গান তৈরির পর মানানসই একটি সুন্দর নাম দেব।’’
তবে ফারিয়া তার বিয়ে ভাঙনের খবরের কারণে বেশ বিপাকে পড়েছেন। জানালেন, ‘আর বলবেন না। আমার বিয়েশাদির খবর যেভাবে লেখা হলো, তাতে কিন্তু সত্যিই আমার মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমি এমন একটা মেয়ে যে তার প্রতিটি বিষয় নিয়ে বরাবরই অকপট। আমার কোনো লুকোচুরি নেই। আমি প্রকাশ্যে প্রেমের কথা বলেছি, বাগদানের কথাও বলেছি। তাহলে বিয়ের কথা নিয়ে কেন গোপনীয়তা বজায় রাখব? ফলে এই বিষয়ে আমাকে নিয়ে যদি ঠিকঠাকভাবে প্রশ্নটা করা হতো আমি অবশ্যই সব স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিতাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে সেভাবে কিছু না জেনে মনগড়া কথাবার্তা লিখেছেন। এর কারণে আমি ইমেজ সংকটে পড়ি। কারণ আমি এতদিনের ফিল্ম ক্যারিয়ারে খুব পরিষ্কার একটা ইমেজ রক্ষা করে চলেছি। আমার কোনো সুগার ড্যাডি আছে সেটাও কেউ বলতে পারবে না। সেখানে আমার নামে এসব কথা লেখা হলে সেই ইমেজে একটু হলেও আঘাত হানে। তাছাড়া আমার পরিবার শোবিজের মানসিকতার চেয়ে খানিক আলাদা। বেশিরভাগই আর্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের। সবমিলিয়ে বিয়ে ভাঙার ভুলভাল খবরগুলো আমাকে পীড়া দিয়েছে।’
অবশেষে বিয়ের বিষয়টি পরিষ্কার করেই বললেন ফারিয়া, ‘বিয়েটা হবে, তবে এটা সময়ের ব্যাপার। এটাকে এত বাজেভাবে লেখার কিছু নেই। সব নায়ক-নায়িকাকে এখনই বিয়ে করতে হবে, এটা কোথায় লেখা আছে? আমি এখন ২৭ বছরের। জীবনটা পড়ে আছে। এখনো একটা বাড়ি কিনতে পারিনি। যদিও আমি এদেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন। কিন্তু আমাদের শোবিজের যে অবস্থা তাতে শুধু সিনেমা, বিজ্ঞাপন কিংবা আনুষঙ্গিক কাজ করে সৎপথে এত আয় করা যায় না যা দিয়ে রাতারাতি একটি বাড়ি কিনে ফেলব।’
বিভিন্ন ইন্টারভিউয়ে আপনার সহকর্মীরা আপনাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করে। সেগুলোকে কীভাবে দেখেন? জানতে চাইলে এই নায়িকা বলেন, ‘দেখেন, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনো শত্রুতা নেই। বরং কেউ কেউ আমার বন্ধু। কেউ ভালো কাজ করলে আমারও ভালো লাগে, সে কথা আমি প্রকাশ্যে উল্লেখও করি। নেতিবাচক দিকগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে যাই। তারপরও যদি কেউ আমাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা ছড়ায়, আমাকে ভ্যাঙানো, হাসি-তামাশা করার চেষ্টা করে সেটা তাদের রুচির ব্যাপার। এতদিন অনেকে অনেক কথাই তো বলেছে আমাকে নিয়ে। কোনোদিন সেটি নিয়ে আমার কোনো রি-অ্যাকশন কি কেউ দেখেছে? তার মানে হলো এগুলো আমি পাত্তাই দিই না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এড়িয়েই যাই। আর যদি কান পর্যন্ত চলেও আসে তখনো আমি চুপ থাকি। এসব নিয়ে কথা বলার মতো এত সময় কোথায়? কথায় আছে, খালি কলসি বাজে বেশি। তারা সেটাই প্রমাণ করেন। শুধু আমি কেন? এই যে আমাকে এত জায়গায় ট্রল করা হয়, সেগুলো কি কোনো দর্শক মনে রাখে? পাত্তা দেয়? নাকি এন্টারটেইন হয়? যদি তাই হতো তবে আমাকে নিয়ে মানুষের যে ভালোবাসা লক্ষ করি সেটা তো থাকত না, তাই না? আমি শুধু মন দিয়ে ভালো কিছু কাজ করতে চাই। আমি জানি, ভালো কাজ করতে থাকলে দিনশেষে সব নেতিবাচকতা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। ফলে আমি ভালো করলে তাদের কাছ থেকেও ভালো ভালো মন্তব্য আশা করি।’
ফারিয়া এখন কোনো সিনেমার শ্যুটিং না করলেও মাঝেমধ্যেই দুই বাংলার স্টেজে তার শো থাকে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি স্টেজ শো করাটা দারুণ উপভোগ করি। দর্শকের ভালোবাসা কাছ থেকে পাওয়া যায়। এজন্য আমি তাদের ফাঁকি দিতে চাই না। আমি স্টেজে ২০ মিনিট পারফর্ম করি। এরজন্য অনেক ইনভেস্ট করতে হয়। ভারত থেকে পোশাক, মিউজিক মিক্স করে নিয়ে আসি। আমার স্টেজ পারফরমেন্স যারা দেখেছেন তারা জানেন, এটা অনেকটা জেনিফার লোপেজের আদলে। এজন্যই হয়তো আমাকে আয়োজকরা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে একমাত্র শাকিব খানই আমার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেন।’
