বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শিশুসহ নানা বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। শীতের প্রকোপ বাড়ায় বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ও ডায়রিয়াসহ নানান রোগে। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় তিন-চারজন শিশুকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম আহসান জানান, তার হাসপাতালের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গত এক মাস ধরে দিনে গড়ে সাড়ে চারশ শিশু ভর্তি হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই ঠাণ্ডাজনিত নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। চমেকের দুটি শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কর্মী ও শয্যা নেই। এমনকি একটি শয্যায় তিন-চারজন শিশুকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চমেক হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৮০০। কিন্তু দিনে গড়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে ৩২’শ থেকে ৩৩’শ রোগী। গতকাল সোমবার সরেজমিনে চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, নবজাতক, জিএফ ইউনিট ও কেবিন মিলে কোথাও নতুন রোগীর জন্য শয্যা খালি নেই। শয্যা না থাকায় অনেক শিশুর চিকিৎসা চলছে বারান্দার মেঝেতে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের কমবয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। ৩২ দিন বয়সী শিশুকন্যা তানিশাকে ভর্তি করা হয়েছে ৮ নম্বর শিশু নেফ্রোলজি বিভাগে। ওয়ার্ডটির বিএন/১৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা চলছিল তানিশার। তার পাশে বসেছিলেন বাবা মকবুল হোসেন। বাড়ি খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে। তিনি জানান, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ১৯ জানুয়ারি প্রথমে মেয়েকে ভর্তি করান খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তানিশাকে নিয়ে আসেন চমেকে।
৪ মাস বয়সী শিশু জোবাইয়েরের চিকিৎসা চলছিল একই ওয়ার্ডের বিএন/২২ নম্বর শয্যায়। তার মা জোবাইদা খাতুন জানান, গত বৃহস্পতিবার তার ছেলেকে চমেক হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে ভতি করান। চিকিৎসকরা তাকে জানান, ঠাণ্ডাজনিত কারণে তার ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
৮ নম্বর শিশুস্বাস্থ্য ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমরুল কায়েস জানান, ৮ ও ৯ নম্বর শিশুস্বাস্থ্য ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে শয্যাসংখ্যাা ১০৪। কিন্তু এ দুটি ওয়ার্ডে গড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে চারশ শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স থাকলেও ক্লিনার নেই। ফলে শিশু রোগীর চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে দিনে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাহিম হাসান রেজা। তিনি গতকাল বিকালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা মোট ২২৫টি। বর্তমানে কোনো শয্যা খালি নেই। ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুরা নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
এদিকে শীতের তীব্রতা শিগগিরই কমবে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা সুমন সাহা। তিনি গতকাল বিকালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে গত এক মাসে গড়ে তাপমাত্রা ছিল ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বাড়বে। ফলে ঠাণ্ডা কমে গেলে শিশুদের রোগ-শোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
