দিনে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০৯ এএম

ভোলা জেলার একটি উন্নয়ন কূপ থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড-বাপেক্সের মালিকানাধীন ভোলা নর্থ-২ উন্নয়ন কূপ বা মূল্যায়ন কূপে এ গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এর আগে ২০১৮ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানের আরেকটি কূপ, ভোলা নর্থ-১ থেকেও গ্যাস পাওয়া গেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রমতে, বাপেক্সের তত্ত্বাবধায়নে ভোলা নর্থ-২ কূপ খনন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম। গত ৫ ডিসেম্বর ভোলা নর্থ-২-এর কূপ খনন কার্যক্রম শুরু হয়। ৩ হাজার ৪২৮ মিটার গভীরতায় সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয় গত ১৭ জানুয়ারি। এরপর কিছু প্রক্রিয়ার পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বাপেক্স। এখন আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঠিক কী  পরিমাণ গ্যাস উত্তোলযোগ্য তা জানা যাবে। সে জন্য এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।

বাপেক্সকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুসারে চালাতে হবে। ২০২২-২৫ সময়কালের মধ্যে পেট্রোবাংলা ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে।

সাগরে ও স্থলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রুনাইসহ গ্যাস ও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

বাপেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোলা নর্থ-২-এ ১৯১ বিসিএফ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এ কূপ খননে ১৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির গ্যাসের মূল্য হিসাব করলে ৯ হাজার ৭০৪ কোটি টাকার গ্যাস রয়েছে।

এদিকে চলতি মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার, যা আগামী মাসে কার্যকর হবে। প্রতি ইউনিট গ্যাস বিক্রি করে পেট্রোবাংলার লাভ হবে ৫ থেকে ৬ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ভ্যাট-ট্যাক্স জমা দেওয়ার পরও পেট্রোবাংলার কাছে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থ জমা হবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়বে। জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির খড়গ চাপিয়ে সরকারের এভাবে মুনাফা করা অযৌক্তিক।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে যে বাড়তি আয় হবে তা দিয়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করবে সরকার। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে পারে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান সেচ মৌসুম, আসন্ন রমজান ও গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাড়তি অর্থ দিয়েও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাস্তবতা বলছে, এই পরিমাণ গ্যাস আমদানির পরও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পের চাহিদা মেটাতে দিনে আরও অন্তত ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকবে। এর বাইরে সার, সিএনজি, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য খাতে ঘাটতি থেকেই যাবে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু স্থানীয় গ্যাস ও আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুটের। সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত