বোমা-আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৭ এএম

বোমা ও আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজার তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সম্মেলন উদ্বোধনের পর মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসিদের এ নির্দেশনা দেন।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, প্রকল্প গ্রহণ করার সময় তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয় না। প্রকল্প গ্রহণ শেষে যখন জমি অধিগ্রহণ করতে হয় তখন ডিসিদের জানানো হয়। প্রকল্প গ্রহণের সময় জমির প্রয়োজনের কথা জানতে পারলে জমি অধিগ্রহণে সুবিধা হয় বলে জানান তারা।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া ডিসিরা জানিয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টিও জানিয়েছেন। মুক্ত আলোচনায় ২১ ডিসি এবং ৪ বিভাগীয় কমিশনার অংশ নেন। তারা বিদ্যুৎ পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের পর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক কার্য-অধিবেশন শুরু হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ডিসিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এখন সরাসরি রাজনীতি করার সুযোগ পান। এ সুযোগ বন্ধে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও সুনির্দিষ্ট বিধিমালা করার প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, আমরা মনে করি এটি একটি ভালো প্রস্তাব। এটি নিয়ে কাজ করব। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিনে গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারীর মতো একটি বিধিমালা করার প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন ঝিনাইদহের ডিসি। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে পাঠদানে তাদের দায়সারা আচরণ দেখা যায়। বিধিমালা হলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার প্রবণতা ঠেকিয়ে পাঠদানে আন্তরিক করা যাবে। বিধিমালা বা নীতিমালা থাকলে শিক্ষকতা পেশায় থেকে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করাও সম্ভব।

২৪ ঘণ্টার জন্য ‘শিক্ষা চ্যানেল’-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঝালকাঠির ডিসি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরাও মনে করি এটি যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের বদান্যতায় আমরা সংসদ টেলিভিশনটি ব্যবহার করি। যদি আরেকটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন পাওয়া যায় তাহলে হয়তো খুব ভালো হয়। এটি নিয়ে তারাও কাজ করছেন, এ কথা ডিসিদের জানানো হয়েছে।

বর্তমানে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগে মাদ্রাসাও মাউশির অধীন ছিল। এখন আলাদা অধিদপ্তর হয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নামে স্বতন্ত্র একটি অধিদপ্তর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একমত হননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা মনে হয় অনেক বেশি ভাগ করলে সমন্বয়টা বরং কমতে পারে। কাজেই এ বিষয়ে আরও ভেবেচিন্তে দেখতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ডিসিদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সাশ্রয়ে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ২৫টি নির্দেশনা কার্যকরে গুরুত্ব দিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ এবং জ¦ালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিসিদের। সম্মেলনের কার্য-অধিবেশনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, এ বছর সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি। তাই জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিসিদের। সামনে সেচ মৌসুমে যাতে কৃষিকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যায় সে ব্যাপারে কাজ করতে ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরের কাছে বিদ্যুতের যেসব পাওনা আছে সেগুলো দ্রুত আদায়ের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেকটি সরকারি ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের।

ব্রিজ নির্মাণ ও প্রকল্পের পরিকল্পনায় অসংগতি তুলে ধরে ডিসিরা বলেছেন, অনেক প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। জনবলের অভাবে এমনটা হচ্ছে। এমনকি দেশের কোনো কোনো জায়গায় জনবসতি না থাকলেও বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে ডিসিরা এসব অসংগতির তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, এ অসংগতিগুলো তারা দেখছেন। এসব অসংগতি দূর করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান।

সম্মেলন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা ঘিরে ডিসিরা প্রস্তাব দিয়েছেন। বরিশালে ও নরসিংদীতে অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই করে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত