আ.লীগ জন্ম থেকেই একটি সন্ত্রাসী দল : ফখরুল

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৩৬ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই একটি সন্ত্রাসী দল। সব সময় তারা মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে, তাদের নিঃস্ব করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। এখন আবার একটি তামাশার নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু জনগণ আর দানবীয় সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জনগণ এবার নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করবে।’

সরকারের পদত্যাগ, সংসদে ভেঙে দেওয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বুধবার তৃতীয় দফায় যুগপৎভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সমাবেশ থেকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের ২৭ দফার মধ্যে পরিষ্কার করে বলেছি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। তবে সবার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনাকে ধ্বংস করেছে স্বাধীনতাযুদ্ধের দাবিদার আওয়ামী লীগ। এই ২৫ জানুয়ারি তারা গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস জানে না। তা তারা মুছে ফেলেছে। কেন গণতন্ত্র হত্যা করেছেন আওয়ামী লীগের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই তাদের গায়ে জ¦ালা ধরে। উল্টো বলে বিএনপি নাকি গণতন্ত্র নষ্ট করেছে। সেদিন আপনাদের একদলীয় বাকশাল কায়েমের প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী, ব্যারিস্টার মঈনুল সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তার পদক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমত সহ্য করে না। এরা সন্ত্রাসী দল। এ সরকারের সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা মনে করে এ দেশটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। জনগণকে তারা প্রজা মনে করে। জনগণও তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

সমাবেশে অংশ নিতে দুপুর ১২টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে খ- খ- মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে আসেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন সেøাগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতি এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ৭-দলীয় জোটের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, রাজধানীর পূর্ব পান্থপথে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বিজয়নগর পানির ট্যাংকির কাছে ১২-দলীয় জোট, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১২-দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, সকালে আরামবাগে মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম ও বাবুল সর্দার চাখারীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের (পূর্ব প্রান্তে) সামনে চার দলের গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য সমাবেশ করে । এ ছাড়া ১৫ সংগঠনের ‘সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট বেলা ১১টায় পুরানা পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত