সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোরিয়ায় রেকর্ড রপ্তানি ঘাটতিও বেড়েছে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪২ এএম

কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে রেকর্ড হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২২ সালে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

গতকাল বুধবার ঢাকায় কোরিয়ান দূতাবাস কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

২০২১ সালে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১০৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার, ২০২২ সাল শেষে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন বলেন, ২০২৩ সাল কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী।

কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যানমতে, কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ২২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। ২০১১ সালে ২০ কোটি ডলার এবং ২০১৩ সালে ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।

২০২১ সালে কোরিয়ার পণ্য বাংলাদেশে আমদানি করার আর্থিক পরিমাণ ছিল ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২২ সালে তা বেড়ে ২৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কোরিয়া বাংলাদেশে ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি রপ্তানি করেছে।

কোরিয়াতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আইটেমের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও অবকাশযাপনের সামগ্রী, ব্রোঞ্জস্ক্র্যাপ প্রভৃতি। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮৩ দশমিক ২ শতাংশই তৈরি পোশাক। পোশাক রপ্তানিতে ২০২২ সালে ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেকর্ড হয়েছে। এক বছরে বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া কাগজপণ্য এবং খাদ্যপণ্যের রপ্তানি যথাক্রমে ১৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ও ১৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ব্রোঞ্জস্ক্র্যাপের রপ্তানি ১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

বাংলাদেশে কোরিয়ার রপ্তানি ২০১১ সালে ছিল ১৬৩ কোটি ডলার। প্রায় এক দশক ধরে ১২০ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২০ সালে কভিড মহামারী চলাকালে এটি নিম্নমুখী হয়ে ১০৩ কোটি ডলারে নেমে যায়। এক দশক স্থবিরতার পর ২০২১ সালে রপ্তানি আবার ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে এসে পৌঁছায়। ২০২২ সালে রপ্তানি ২৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেড়ে রেকর্ড গড়েছে।

২০২১ ও ’২২ সালে বাংলাদেশে কোরিয়ার রপ্তানি বাড়ার প্রধান কারণ ছিল কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের ডিজেল আমদানিবৃদ্ধি, যার হার ছিল ৭০৩.৮ শতাংশ। ২০২২ সালে যা ৯৭২ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালে কোরিয়া বাংলাদেশে ডিজেল রপ্তানি করে ৪৫০ শতাংশ বেশি। ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের ডিজেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে কোরিয়ার প্রধান রপ্তানিপণ্য হলো যন্ত্রপাতি, পেট্রো কেমিক্যালপণ্য, ইস্পাত ও কীটনাশক। এগুলো ২০২২ সালে কমেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কারণে বাংলাদেশ সরকার আমদানিতে বিধিনিষধ আরোপ করার ফলে এমনটা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত