রংপুর-খুলনার ভাগ্য সিলেটের হাতে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৯ এএম

প্রায় দেড় মাসের বিপিএল এসেছে শেষ অঙ্কে। বেশিরভাগ দলই পাড়ি দিয়েছে অর্ধেকটা পথ, কোনো দল আরেকটু বেশি। সিলেট স্ট্রাইকার্স ৭ ম্যাচে ৬ জয় থেকে পাওয়া ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে, ৮ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে অনেকটাই প্লে-অফের সমীকরণের বাইরে চলে গেছে ঢাকা। সিলেটের সঙ্গে ফরচুন বরিশালও অনেকটাই এগিয়ে প্লে-অফ পর্বের দিকে।  শুরুর হোঁচটের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসও। শেষ চারের সমীকরণে লড়াইটা জমে উঠেছে রংপুর রাইডার্স আর খুলনা টাইগার্সের ভেতর, পয়েন্ট তালিকার চার ও পাঁচে থাকা দুই দলের ভাগ্য অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে আজ থেকে শুরু সিলেট পর্বে, যেখানে খুলনা খেলবে তিনটি ম্যাচ আর রংপুরের রয়েছে দুটি।

শীর্ষে থাকা সিলেট স্ট্রাইকার্স আজই রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে প্রথম খেলবে। রংপুরের হয়ে ২০১৭ সালে বিপিএলের শিরোপা জিতেছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, পরবর্তীকালে তাকে ছেড়ে দিয়ে সাকিব আল হাসানকে দলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে বিসিবির টানাপড়েন গড়ায় বহুদূর, শেষ পর্যন্ত বিপিএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তি আর নবায়নই করেনি বিসিবি। নতুন করে আবার দীর্ঘমেয়াদে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি এই মৌসুম থেকেই দিয়েছে বিসিবি। এবার সিলেট দলটা গুছিয়েছেন মাশরাফীই। আজ প্রতিপক্ষ পুরনো দল রংপুর। মাশরাফীর দলে ভালো করছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররাই। তৌহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, রেজাউর রহমান রাজা দলের জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের ভেতর দুই অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম ও থিসারা পেরেরা ভালো করছেন। অন্যদিকে রংপুরে স্থানীয় ক্রিকেটারদের চেয়ে বিদেশিদের পারফরম্যান্সই উজ্জ্বল। ৬ ম্যাচে ২২৫ রান শোয়েব মালিকের,পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কই রংপুরের হয়ে করেছেন সর্বোচ্চ রান। হারিস রউফ হতে পারেন রংপুরের ট্রাম্পকার্ড, গতিশীল এই পেসার ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে আউট করলেও পরে ইফতিখার ও সাকিবের দারুণ ব্যাটিংয়ের সামনে আর কিছু করতে পারেননি। তিন ম্যাচ খেলে খুব একটা ভালো ছন্দে নেই মোহাম্মদ নাওয়াজও। ৬ ম্যাচে ৩ জয় ও ৩ হারে ৬ পয়েন্ট রংপুরের, সিলেটের কাছ থেকে ২ পয়েন্ট ছিনিয়ে আনতে পারলে প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হবে তাদের। সিলেট পর্বে রংপুরের অন্য ম্যাচ ঢাকার বিপক্ষে, যে ম্যাচটায় রংপুরই ফেভারিট।

আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে সিলেটের কাছে ২ রানের হার বরিশালকে শীর্ষে উঠতে দেয়নি। ৭ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। টানা ৩ ম্যাচে হারা চট্টগ্রামের প্লে-অফের সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে, দলের দেশি কিংবা বিদেশি কোনো ক্রিকেটারই খুব একটা ছন্দে নেই। অন্যদিকে সাকিব, ইফতিখার, মোহাম্মদ ওয়াসিম, করিম জানাত, ইব্রাহিম জাদরানদের নিয়ে গড়া ভারসাম্যপূর্ণ দল বরিশাল, পারফরম্যান্সও ধারাবাহিক। আসরে তারা হেরেছে মাত্র দুটো ম্যাচ, দুটোই সিলেটের বিপক্ষে এবং দারুণ লড়াইয়ের পর। সিলেটে বরিশালের দুটো ম্যাচ, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিপক্ষে। দুটো পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল, যদি বরিশাল সিলেটের মাঠে পয়েন্ট হারায় সেটাই হবে অঘটন।

সিলেট পর্বে ৩টি ম্যাচ খুলনা টাইগার্সের, যার মধ্যে দুটিই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে আর একটা সিলেট স্ট্রাইকার্সের সঙ্গে। ৬ ম্যাচে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জয় ইয়াসির-তামিমদের। এই পর্বে সবকয়টি ম্যাচে হেরে যাওয়া মানে খুলনার বাঘেদের গর্জনও থেমে যাওয়া, তখন ঢাকায় তাদের ম্যাচগুলো হবে স্রেফ নিয়ম রক্ষার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত