মেট্রোরেলের ৫ প্রকল্পে বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩৬ এএম

অর্থ সংকটে মেট্রোরেলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে। বাজেট বরাদ্দ কমার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রকল্পগুলোর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায়, ইউটিলিটি শিফটিংয়ের জটিলতা এবং বিভিন্ন প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় কম অর্থ লাগবে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ডিএমটিসিএলের আওতায় পাঁচটি ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাঁচ প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ২৬৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৩০৮ কোটি ও প্রকল্প সহায়তা ৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ১৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কমছে ৪ হাজার ১০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি লাইন-১-এর জন্য চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ৪৮৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

বরাদ্দ কমানোর কারণ জানতে চাইলে এমআরটি লাইন-১-এর প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁইয়া গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি ঠিকাদারের জন্য মোবিলাইজেশন অ্যাডভান্স এ বছর ধরা ছিল, সেটা এ বছর দেওয়া সম্ভব হবে না। এ জন্য দুটি চুক্তির টাকা এ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট থেকে আপাতত বাদ রাখা হয়েছে।’

এমআরটি লাইন-৬-এর জন্য চলতি অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ৩ হাজার ৪৯ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর জন্য এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮০০ কোটি টাকা। সংশোধনীতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০৬ কোটি টাকা।

অবশ্য এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)-এর বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩১ কোটি, তা ১৩৮ কোটিতে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল ওয়াহাব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার প্রকল্পটি যেহেতু শুধু ডিজাইন, সে জন্য এর বরাদ্দ বেড়েছে। লাইন-৫-এর অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে জুনের পর। এখন ঠিকাদার চুক্তি করবে, তারপর রিপোর্ট দেবে, তারপর জুনের পর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর বাকিদের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৯ মাস লাগবে। জুনের আগে অনেকেরই কাজ শুরু হবে না, তাই বাজেট বরাদ্দ কমানো হচ্ছে।’

বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রোগ্রামিং) আসমা আক্তার জাহান বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরএডিপিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে ১৬৩টি (সওজ-১৫০টি, ডিএমটিসিএল-৬টি, বিআরটিসি-১টি, আরটি এইচডি-১টি) প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২৬টি প্রকল্প চলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। প্রকল্পগুলোর ভূমি অধিগ্রহণের নিষ্পত্তিকরণ, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের ম্যাচিং ফান্ড, সমাপণযোগ্য প্রকল্পের পূর্ণ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণসহ চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার স্বার্থে সরকারি খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবশ্যকতা রয়েছে।

চলতি অর্থবছর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ১৫৬টি প্রকল্পের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তবে বাজেট সংশোধনীতে প্রকল্প সংখ্যা বেড়ে ১৬৩টি হলেও বাজেট বরাদ্দ কমে ২৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরেরই ১৪৩টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, সংশোধনীতে প্রকল্প ১৫০টিতে বেড়ে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও কার্যক্রম) উল্লেখ করেন, অর্থ বিভাগ উন্নয়ন বাজেটে ২৫ শতাংশ অর্থ স্থগিত করার কারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘বি’ ক্যাটাগরি প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। আবার অর্থ বিভাগের নির্ধারণ করা ‘বি’ ক্যাটাগরি প্রকল্পের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সমাপণযোগ্য প্রকল্প থাকায় তা শেষ করা সম্ভব হবে কি না সে বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ ধরনের প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের স্বার্থে স্থগিতকৃত অর্থ ছাড়ে অনুরোধ জানান।

সভায় অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন চাপের কারণে সরকার ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করছে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ এবং কৃষি খাতে সরকারকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। এ জন্য সরকারি খাতে অতিরিক্ত দাবি খারিজ করা হয়েছে। সরকার প্রকল্প সাহায্য (পিএ) খাতে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে উৎসাহিত করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পিএ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সমর্পণ করা হলে বাজেটের আকার ছোট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প সাহায্য সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সমাপণযাগ্য প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থ বিভাগের ভুলে অস্বস্তিতে সড়ক বিভাগ : চলতি অর্থবছরের বাজেট বইয়ে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সড়ক বিভাগ বলছে, প্রতিটি পর্যায়ে সবিস্তার আলোচনা এবং ত্রিপক্ষীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরও বাজেট বইয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিআরটিএর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬৪০ কোটির জায়গায় ৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা মুদ্রিত হয়। অবগত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়ে করণীয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগ বিষয়টি স্পষ্ট করেনি এবং করণীয় হিসেবে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় এটি এখনো অমীমাংসিত।

বিভিন্ন গৃহীত পদক্ষেপের ফল হিসেবে অচিরেই বিআরটিএর রাজস্ব বর্তমান সময়ের চেয়ে আরও প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্ধিত এ লক্ষ্যমাত্রা বহাল রাখা যেতে পারে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সচিবালয়, অংশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃতির বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় বলা হয়, চলমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যেক রাষ্ট্রই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকা- স্থিতিশীল রাখার জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। বাংলাদেশ সরকার একই প্রেক্ষাপটে সময় উপযোগী, যৌক্তিক, কর্ম-কাঠামোভিত্তিক বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতি সমুন্নত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত