ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের পূর্ববাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ৭৫ বছর বয়সী মুসা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ জানান। এ ছাড়া শুধু তার নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার কারণে মুসা মিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পুলিশ বলছে, মুসা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি মারামারির মামলায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার শ্যালক শাফায়েত হোসেনকেও (৩৮) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার মুসা মিয়া এলাকায় সম্মানিত মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাকে আটক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুসা মিয়া আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। পুলিশ তাকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া বুধবার রাত থেকে আমার শ্যালক শাফায়াতকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শাফায়েত আমার নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী। নির্বাচনের কিছুদিন আগে এমন ঘটনায় সমস্যার মুখে পড়েছি।’
এলাকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, মুসা মিয়াকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে শাফায়াত হয়তো আত্মগোপন করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, ‘মারামারির মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে মুসা মিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি কারও নির্বাচনী এজেন্ট কি না আমরা জানি না। আর শাফায়াতের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
একই ধরনের দাবি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মুসা মিয়ার গ্রেপ্তারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আশুগঞ্জের দুর্গাপুরে হওয়া মারামারি মামলার আসামি। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীর শ্যালক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন হবে। এতে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ।
