ঠান্ডাজনিত রোগে ৭৭ দিনে ৯৫ মৃত্যু

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:০২ এএম

দেশে ঠান্ডাজনিত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭৭ দিনে শিশুসহ ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে ৯২ জন এবং ডায়রিয়ায় ৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৫ জন ডায়রিয়ায় এবং ৬৬ হাজার ৮২১ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শীতকালীন রোগে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৬৬ জন।

রাজধানীর ৫৩টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে গত ১৪ নভেম্বর থেকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীত নামে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। এরপর জানুয়ারিতে এ তীব্রতা কমতে শুরু করে। এ মৌসুমে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশু এবং বয়স্করা। ঠান্ডাজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮২ জন এবং শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে ১৭ হাজার ৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২১ হাজার ৯২২ জন আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা বিভাগে (মহানগর ব্যতীত) ১৭ হাজার ৮৪ জন, খুলনায় ৯ হাজার ৩৯, ময়মনসিংহে ৫ হাজার ৯১, সিলেটে ৪ হাজার ১৬৫, বরিশালে ৩ হাজার ৮৫৪, রাজশাহীতে ২ হাজার ৮৫৬ এবং রংপুরে ২ হাজার ৮১০ জন রয়েছে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২ জন, ময়মনসিংহে ২৬ এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দুজন করে মারা গেছে। তবে ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ঠান্ডাজনিত রোগে কেউ মারা যায়নি।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ হাজার ২০১, খুলনায় ২২ হাজার ৬০, রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৭১১, ময়মনসিংহে ১৬ হাজার ৭৮৫, বরিশালে ১২ হাজার ৫৫০, রংপুরে ১২ হাজার ৬৫৪ এবং সিলেটে ১০ হাজার ১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজনই চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত