চাঁদপুরে শিক্ষাতরী

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:১২ এএম

চাঁদপুরেও শুরু হয়েছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের শিক্ষাতরীর কার্যক্রম। গতকাল শুক্রবার ডাকাতিয়া নদীতীরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষাতরীর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিশুদের খেলাভিত্তিক এবং অভিজ্ঞতামূলক এ শিক্ষা কার্যক্রম এর আগে হাওর এলাকায় শুরু হয়। ‘বিজ্ঞানতরী’, ‘গণিততরী’ ও ‘মূল্যবোধতরী’ নামের নৌকা তিনটি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থেকে যাত্রা শুরু করে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে এখন চাঁদপুরে অবস্থান করছে। পরে শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলায় যাবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ব্র্যাক। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্র্যাকের ৫০ বছর পূর্তিতে তাদের শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় এই বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরুর পর শিক্ষাতরীগুলো বিভিন্ন ঘাটে ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য থামছে। থেমে থাকার সময়ে তীরবর্তী এলাকার শিশু, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা নৌকাগুলো পরিদর্শন ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে। পরিদর্শনের জন্য তরী খোলা থাকছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সবগুলো শিক্ষাতরী সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশিকাসহ ব্র্যাকের সুরক্ষানীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাতরীর কার্যক্রম ও উপকরণগুলো বিশেষভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য সাজানো হয়েছে। তবে অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং দর্শকরাও এখানে শেখার আনন্দ অনুভব করতে সক্ষম হবেন। এ ছাড়াও শিক্ষাতরীগুলোতে থাকছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ র‌্যাম্প। অংশগ্রহণকারীদের জন্য মূল্যবোধের ওপর নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি এবং কনটেন্ট থাকবে, অন্যদিকে গণিত এবং বিজ্ঞানে ধাঁধা, হাতে-কলমে পরীক্ষা, মজার অ্যাক্টিভিটি এবং গেম খেলে সমস্যা সমাধান এবং মহান বিজ্ঞানী ও গণিতবিদদের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান, শিক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম প্রধান প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মণসহ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও গণিত যে খুব মজার বিষয়, খুব আনন্দ নিয়ে তা শেখা যায়, কী পদ্ধতিতে শেখালে তা আনন্দময় হয়, তা না করলে খুব সহজ বিষয়ও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। ব্র্যাক তার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনেকগুলো তরীকে শিক্ষাতরীতে রূপান্তরিত করেছে, সেগুলো খুব সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে, ছবির মাধ্যমে, অ্যানিমেশনের মাধ্যমে, একেবারে খেলতে খেলতে বিজ্ঞানের যত বিষয় আছে, অঙ্কের যত বিষয় আছে তা তুলে ধরছে। একই সঙ্গে মানবিকতার বিষয়টা, মূল্যবোধের বিষয়টা যাতে আমাদের শিক্ষার্থীদের ছোট বয়স থেকে শিখিয়ে দিতে পারি।

আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমের মূলকথাও কিন্তু তাই। কীভাবে করতে করতে শেখা যায়, আনন্দের সঙ্গে, মুখস্থ না করে। আমরা পরীক্ষার ভয়ে ভিত থাকব না। এবং মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হব। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের সরকারের নতুন শিক্ষাক্রমের এই যে প্রচেষ্টা ও ব্র্যাকের এই যে প্রয়াস, এটি একটি আরেকটির পরিপূরক ও একটি অন্যটিকে এগিয়ে নিতে আরও সাহায্য করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমের বই নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যারাই বই নিয়ে অভিযোগ তুলছে, তারা কিন্তু কেউ আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রমের বই পড়ান না। আমি সবাইকে সত্য যাচাই করে দেখতে বলব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত