রাজশাহী শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ। প্রতিটি বড় রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক তোরণ। ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। নগরবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা। প্রায় ৫ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার রাজশাহী সফরে আসবেন। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) জনসভায় অংশ নেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে চান আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে উল্লসিত দলীয় নেতাকর্মীরা। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যেই চাঙ্গা ভাব লক্ষ করা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছিলেন। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবেন। বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেবেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ৩২ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ। নৌকার আদলে বানানো হয়েছে মঞ্চ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহী জুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, রাজশাহী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি পয়েন্টেই নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
মাদ্রাসা মাঠ দেখা গেছে, মাঠের উত্তর পাশে প্রধান প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে এমনভাবে গেট তৈরি করা হয়েছে, যেন সুশৃঙ্খলভাবে মানুষ ভেতরে ঢুকতে পারেন। মাঠের মধ্যে একাধিক বাঁশের বেড়া দিয়ে মাঠকে কয়েক ভাগে ভাগ করে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে বেশিসংখ্যক মানুষের স্থান সংকুলানের জন্য মাঠের দক্ষিণ পাশের দেয়ালটি অপসারণ করা হয়েছে। এতে দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি এখন মাঠের সঙ্গে সংযুক্ত।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ হবে। শহরে ২২০টি মাইক ও ১২টি এলইডি স্ক্রিন থাকবে। এ ছাড়াও সমাবেশের জন্য ৫ শতাধিক ভলান্টিয়ার রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও পায়খানার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় মাঠে নেতাকর্মীরা আসবেন। জনসভায় রাজশাহীসহ সব জেলার লোকজন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাব। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নতুন চেহারায় সেজেছে রাজশাহী শহর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পুরো রাজশাহী শহরের প্রতিটি বড় রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক তোরণ। ব্যানার ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী।
সাতটি বিশেষ ট্রেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজশাহী জনসভা উপলক্ষে পশ্চিম অঞ্চলে রেলওয়েতে চালু করা হয়েছে সাত বিশেষ ট্রেন। রবিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ট্রেনগুলো রাজশাহীতে আসবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা উপলক্ষে সাতটি বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো, নাটোর স্পেশাল, সিরাজগঞ্জ স্পেশাল, জয়পুরহাট স্পেশাল, সান্তাহার স্পেশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্পেশাল, রহনপুর স্পেশাল ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি স্পেশাল ট্রেন।
অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি শেখ হেলালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রেনগুলো বেলা ১২টা থেকে ১টার মধ্যেই রাজশাহীতে পৌঁছাবে। সাতটি বিশেষ ট্রেনে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীতে
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে একদিন আগেই পৌঁছেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। গত কয়েক দিন ধরেই নেতারা রাজশাহী আসছেন। এরই মধ্যে দলের হেভিওয়েট নেতারা অবস্থান করছেন এখানে। শনিবার বিকেলে রাজশাহী পৌঁছছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাজশাহীতে পৌঁছেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বলেন, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে ১৫-২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এরই মধ্যে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। তারা বর্তমানে রাজশাহী পর্যটন মোটলে অবস্থান করছেন। এ ছাড়াও এমপি ও অন্যরাও রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। ছাত্র লীগের কেন্দ্রীর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও চলে এসেছেন।
