পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ড বা শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ দলটিকে দেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত শনিবার থেকে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনো তাদের কাউকেই প্রবেশ করানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয়ে দেশটি থেকে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে আসা পাঁচ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বান্দরবানের তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় গত পাঁচ বছর ধরে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালের আগস্টের পর থেকে প্রাণভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা সেখানে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকার ২০১৭ সালের আগস্টের পর থেকেই কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া জোরালো করা হয়েছে। তাছাড়া শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গারাও সুবিধাজনক সময়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এ মাসের শুরুর দিকে সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ আবাসস্থল পুড়ে যায়। এরপর বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর বলেছেন, ‘আমাদের কমিটি হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এ লোকদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু তাদের স্থানান্তর বা আশ্রয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বর্তমানে ওই অবস্থানে আর কোনো নতুন ক্যাম্প থাকবে না। তাদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা উচিত। সেটি কোথায় হবে সে জায়গা এখনো ঠিক হয়নি। কমিটিতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন, পুলিশ, গোয়েন্দা এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের বেশ কয়েকটি ঘটনা লক্ষ করেছি। এটি এ লোকদের জীবনকে বিপন্ন করবে। যেহেতু তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, মানবিক কারণে তাদের এখানে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
এদিকে শূন্যরেখা থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গা মূলত নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছায় সেখানে থেকে যায়। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আর রোহিঙ্গাদের গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে তারা আটকা পড়ে। অস্থায়ী তাঁবুতেই এতদিন ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছিল। বাংলাদেশ ১৯৫১ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের মানবিক সহায়তা দিয়েছে। যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক দমনপীড়নের সময় পালিয়ে এসেছে।
