শীতে হাঁপানি বা অ্যাজমার রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। হাঁপানি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার লক্ষণ কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপবোধ হওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় গলা-বুকে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া। কিছু ক্ষেত্রে কাশি ছাড়া অন্য লক্ষণগুলো তখন থাকে না, বিশেষ করে কাফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা থাকলে। হাঁপানির সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। বংশগত ও পরিবেশের কারণে হাঁপানি বাড়ে।
অ্যাজমা রোগীর শ্বাসনালিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়ে থাকে। একই পরিবেশে একজনের অ্যাজমা অ্যাটাক হচ্ছে কিন্তু অন্য জনের হচ্ছে না। এর কারণ ওই আবহাওয়ায় এমন কিছু জিনিস আছে, যার অ্যাজমা অ্যাটাক হলো তার শ্বাসনালি ওই জিনিসের প্রতি সংবেদনশীল। একে বলা হয় এজমা ট্রিগার বা অ্যালার্জেন। অ্যালার্জেন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কারও একটা-দুটো, কারও পাঁচ-সাতটাও থাকতে পারে। অ্যাজমা অ্যাটাক থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই ধরন অনুযায়ী এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ, ঠা-া আবহাওয়া, বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশগত কারণ, মানসিক চাপ, মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ হাঁপানির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো অ্যালার্জি-জাতীয় খাবারের কারণেও অ্যাজমা বাড়ে। রোগীর অসুস্থতার ইতিহাস ও ফুসফুসের পরীক্ষা-পালমোনারি ফাংশন টেস্ট/স্পাইরোমেট্রির সাহায্যে হাঁপানি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। অ্যাজমা চিকিৎসা করা হয় এই রোগের তীব্র আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং দীর্ঘ সময় এই রোগের স্থায়িত্ব রোধ করতে।
ক. দ্রুত ত্রাণ বা উদ্ধারকারী ওষুধ : বিটা-অ্যাগোনিস্ট যেমনসালবিউটামল বা লেভো সালবিউটামলএগুলো শ্বাসনালিকে দ্রুত শিথিল করে এবং নিঃশ্বাস স্বাভাবিক করে।
খ. দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধকারী : ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডস : যেমনফ্লুটিকাসন, বুডিসোনাইড, বিক্লোমিথাসোন ইত্যাদি। মিথাইলজ্যান্থিন : যেমনডক্সোফাইলিন, এমাইনোফাইলিন বাথিয়োফাইলিন। ইমিউনোথেরাপি : যেমনওমালিজুমাব, রেসলিজুমাব ইত্যাদি। দীর্ঘকাল-কার্যকর এন্টিকোলিনারজিকস : যেমনটিওট্রোপিয়াম ও ইপ্রাট্রোপিয়াম। লিউকোট্রাইন রিসেপ্টর এন্টাগনিস্ট বা লিউকোট্রাইন মডিফায়ার্স : যেমনমন্টেলুকাস্ট, জাফিরলুকাস্ট ইত্যাদি। মাস্ট-সেল স্থিতিশীলকারক : যেমনক্রোমোলিন সোডিয়াম।
গ. ব্রঙ্কিয়াল থার্মোপ্লাস্টি : যাদের অ্যাজমা সমস্যা গুরুতর এবং এই থেরাপি নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা রয়েছে এফডিএ দ্বারা তাদের চিকিৎসা করা হয়।
আধুনিক চিকিৎসায় মুখে খাবার ওষুধের চেয়ে ইনহেলারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। কারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, কম পরিমাণ ওষুধ লাগে। ইনহেলার অ্যাজমা রোগীর এমন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে টেনে নেওয়াও ওষুধ শ্বাসনালিতে পৌঁছায়। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের প্রথম ও দ্রুত চিকিৎসা হচ্ছে ইনহেলার। ইনহেলার শ্বাসকষ্ট লাঘবে খুব দ্রুত কাজ করে, যেখানে সেবনযোগ্য ওষুধ খেলে পরিত্রাণে বেশি সময় লাগে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশি। অ্যাজমা রোগীর বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও ফলোআপ একান্ত জরুরি।
