বসন্তের সাজ-পোশাকে ফুলের বাহার

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪১ এএম

দরজায় কড়া নাড়ছে ঋতুরাজ বসন্ত। সপ্তাহ পেরোলেই তার আগমন। প্রকৃতিতে বসন্ত বাতাসের আভাস। উৎসবপ্রিয় মানুষের মধ্যেও চলছে নতুন সাজ-পোশাকের প্রস্তুতি। এ উৎসবের সাজ-পোশাক নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

পোশাকে রঙ আর প্রকৃতি

উৎসব পার্বণগুলোতে প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে দেশীয় পোশাক। কামিজ, কুর্তা, ফ্রক, শাড়ি, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবিÑসবকিছুতেই থাকে উৎসবের রঙ ও নকশা। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর পোশাকে রং আর ডিজাইনে নতুনত্ব পাবেন। বেশির ভাগ ফ্যাশন হাউজই বসন্তের পোশাকে উজ্জ্বল রঙের নানা শেড প্রাধান্য দিয়েছে। আয়োজনে আছে শাড়ি, কামিজ, কুর্তা, লং শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রি-পিস, টি-শার্ট, শার্ট ইত্যাদি। পোশাকের নকশায় কাটিং প্যাটার্ন যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনি ভ্যালু অ্যাডেড হিসেবে ব্লক, টাইডাই, স্প্রে ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, কারচুপি থাকছে। চিরায়ত বাসন্তী ও হলুদ রঙের সঙ্গে কমলা, লাল এবং সবুজ রঙের নানা শেড যোগ হয়েছে। তবে বিশেষত্ব কেড়েছে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউজের পোশাক আর শাড়িতে হলুদ ও সাদার মেলবন্ধন জুড়ে দিয়ে।

মিষ্টি ফাগুনের হাওয়ার সঙ্গে হালকা গরমেরও ছোঁয়া থাকে। তাই সুতি কাপড়কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লিলেন, খাদি, ভয়েল এবং তাঁতও আছে। বসন্তের পোশাকের ডিজাইনে ফ্লোরাল মোটিফের পাশাপাশি প্রকৃতির বিভিন্ন মোটিফও দেখা যাচ্ছে। পোশাকের মধ্যে বিশেষত্ব কেড়েছে সিঙ্গেল কামিজ ও কুর্তা। কামিজের নেক ও নি-লেন্থের নানা ধরনের নকশা যোগ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে স্ক্রিনপ্রিন্টের নানা নিরীক্ষা। কুর্তা আর টপে লেয়ার, কটি, ফ্লিল ও বাটন দিয়ে নতুনত্ব আনা হয়েছে।

ছেলেদের বসন্তের পাঞ্জাবিতে উইভিং কাপড়ের নকশাও বেশি। আছে বিভিন্ন রঙ মিশিয়ে তৈরি কটি। তাগা আউটলেটে আছে বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি ও নানা রঙের কটি। পাঞ্জাবির বাইরে অনেক ধরনের টি-শার্টও আছে। টি-শার্টের নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে বসন্তের মোটিফ। অনেকে ফুল শার্টও পরেন। তাদের জন্য আছে হলুদের নানা শেডের ওপর ফ্লোরাল মোটিফ। আছে সুতির স্ক্রিনপ্রিন্টের হাফ শার্টও।

বসন্তের পোশাক নিয়ে অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী শাহিন আহম্মেদ জানান, ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট ও কটি আর মেয়েদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, টপস নিয়ে অঞ্জন’স এবারের বসন্ত আয়োজন করেছে। থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ফ্লোরাল ও জ্যামিতিক মোটিফ। হলুদ, কমলা, বাসন্তী, জলপাই ও সবুজ রঙ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে এবারের বসন্তের আয়োজনে। ডিজাইনে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পোশাকে উজ্জ্বল রঙ প্রাধান্য পেয়েছে। কাপড় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কটন, ভয়েল ও লিলেন কটন।

ফাল্গুনের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন হাউজ বিশ্ব রঙ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, গোল্ডেন হলুদ, কাঁচা হলুদ, কমলা, গেরুয়া, ম্যাজেন্টার সঙ্গে আরও সহকারী হিসেবে গাজর, কমলা, টিয়া, সবুজ, নেভি ব্লু ও ফিরোজা রঙকে প্রাধান্য দিয়েছি। ফ্লোরাল মোটিফেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সুতি, লিলেন, অ্যান্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক কাপড়ে পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে রয়েছে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ, কারচুপি ইত্যাদি। মেয়েদের পোশাকের তালিকায় আছে শাড়ি, থ্রি-পিস, সিঙ্গেল কামিজ, টপস সেট, স্কার্ট, আনস্টিচ ড্রেস, পালাজ্জো, সিঙ্গেল ওড়না ও ব্লাউজ। ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট ও কাতুয়া। বড়দের মতো ছোটদের পোশাকও রয়েছে। উৎসবের পরিপূর্ণতা দিতে পাবেন যুগল আর পরিবারের সবার জন্য একই থিমের পোশাক।

দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো এ বছরও নানা রঙ, ডিজাইন আর মোটিফ নিয়ে বৈচিত্র্যময় পোশাকের আয়োজন করেছে। বিশ্ব রঙ, ইনফিনিটি, আড়ং, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, বিবিয়ানা, কে-ক্র্যাফট, বাংলার মেলা, দেশাল ও নিপুণে পেয়ে যাবেন পছন্দের ফাল্গুনের পোশাক। অনলাইন শপ থেকে ফাল্গুনের শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ ও কুর্তাও কিনতে পারেন।

সাজে বর্ণিলতা

ফাল্গুনের কোন পোশাকে কেমন সাজবেন জানালেন বিউটি এক্সপার্ট মাসুদ খান, দিনের মেকআপ হালকা হবে। মেকআপের আগে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাইজার দিন। এরপর প্রাইমার লাগান। ফাউন্ডেশনের আগে প্রাইমার অবশ্যই লাগাতে হবে। প্রাইমার সাধারণত আপনার সারা দিনের মেকআপকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন বেছে নিন। হালকা মেকআপের জন্য অল্প ফাউন্ডেশনই যথেষ্ট। সারা দিন বেশি ফ্রেশ দেখাতে সাহায্য করবে ক্রিম হাইলাইটিং ব্যবহার করলে। আপনার স্কিন শেডের থেকে দু-তিন শেড লাইট কনসিলার দিয়ে করে নিন ক্রিম হাইলাইটিং। কনসিলার চোখের নিচে, কপালে, নাকের ওপর, থুতনিতে লাগিয়ে নিন এবং ব্লেন্ড করে ফেলুন। কনসিলার অবশ্যই পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। এবার পুরো মুখ ফেসপাউডার দিয়ে ব্লাশার করুন। চোখের সাজে খেয়াল রাখুন যেন চোখের মেকআপেও স্নিগ্ধভাব ফুটে ওঠে। সেটা হিসাব করেই আইশ্যাডো লাগাবেন। কোরাল, পিচ, কমলা, হলুদ, গোল্ডেন, কপার, লাইট ব্রাউন, লাইট পিংক, লাইট পার্পল, প্যারট গ্রিন কালারগুলো খুব ভালো মানাবে পহেলা ফাল্গুনে। বিশেষ করে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে দিন। আইশ্যাডো দেওয়ার পর টানা করে আইলাইনার লাগাবেন। আপনি চাইলে ব্ল্যাক বা ভিন্ন কালারের কাজল এবং লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এটা আই মেকআপে নতুন রূপ নিয়ে আসবে। চোখে আইল্যাশ না পরে মাশকারা লাগিয়ে নিন। লিপস্টিক হিসেবে হালকা রঙগুলোই পারফেক্ট মনে হয়। লাইট পিংক, ব্রাউন বা পিংক, অরেঞ্জ, পিচ, কোরাল ইত্যাদি কালারগুলো বেশ ভালো লাগবে দেখতে। আইশ্যাডো যে কালারে দিয়েছেন সেই কালারের লিপস্টিক দিতে পারেন। কপালে ছোট গোল টিপ দিন।

চুল বাঁধতে অনীহা থাকলে ভাবনার কিছু নেই। প্রথমে চুল ভালো করে শুকিয়ে নিন। এরপর ব্লো-ডাই করুন। চাইলে চুল স্ট্রেইট কিংবা কার্লিও করে নিতে পারেন। অনেকে হয়তো ভাবেন, চুলটা ছেড়ে রাখবেন ঠিকই; কিন্তু সামনে একটু বাঁধা তো থাকতেই পারে। তারা প্রথমেই ঠিক করুন চুলের স্টাইল কী হবে। মাঝে বা কিনারে সিঁথি করে কপালের সামনের দুই পাশের চুল টুইস্ট করে পেঁচিয়ে ক্লিপ দিয়ে কানের পাশে আটকে দিতে পারেন। পেছনের চুলটা ছেড়ে রাখুন। এই সাজে চুলে ফুলের ব্যান্ড যেমন মানানসই, তেমনি কানের একপাশে দু-তিনটি গাঁদা বা জারবেরা গুঁজে দিলেও বেশ লাগবে। বসন্তের সাজে বেণিরও জুড়ি নেই। দুই পাশের চুল টুইস্ট করে পেঁচিয়ে ক্লিপ দিয়ে কানের পাশে আটকে দিতে পারেন। আবার সামনের সব চুলকে অনেকগুলো ভাগ করে অল্প চুল নিয়ে টুইস্ট করে পাফ করা চুলের ওপর দিয়ে মাথার একেবারে পেছনে আটকে দিন। টুইস্ট করতে না চাইলে পাশে সিঁথি করে স্প্রে দিয়ে চুলটা একটু গুছিয়ে কানের দুই পাশে আটকে দিতে পারেন। সামনের সাজ শেষে এবার বেণির পালা। পেছনের চুল ভালো করে আঁচড়ে খেজুর বেণি করুন। চুল ছোট হলে মন খারাপ করবেন না। টারসেল ব্যবহার করুন বেণিতে। এবার পছন্দসই গাঁদা ফুলের মালা বেণিতে লাগিয়ে দিন। সামনের কার্লি চুলগুলো ইচ্ছেমতো সিঁথি করে দুই পাশে এলোমেলো করে ফেলে রাখুন। এবার পেছনের চুলে একটা হাতখোঁপা করুন। আরেকটু ভিন্নতা আনতে কানের একপাশ দিয়ে খোঁপার কিছু চুল বের করে দিন। সামনের চুল কার্ল করতে না চাইলে টুইস্ট করে পছন্দমতো স্টাইল করতে পারেন। খোঁপার একপাশে বড় ফুল গুঁজে দিন। গাঁদা বা বেলি ফুলের মালা দিয়েও জড়িয়ে নিতে পারেন খোঁপা।

মডেল : এফা তাবাসসুম

সাজ : শোভন মেকওভার

পোশাক : অঞ্জন’স

গহনা : এজেড গ্যালারি

ছবি : আবুল কালাম আজাদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত