যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে শনাক্ত হওয়া সন্দেহজনক চীনা ‘গোয়েন্দা’ বেলুনটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত ছিল এবং সেটি পথ ভুল করে দেশটিতে গিয়েছে বলে দাবি করেছে পেইচিং। গত বৃহস্পতিবার বেলুনটি শনাক্ত করার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছিল, চীনের এ গোয়েন্দা বেলুন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ছে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার চীন দাবি করে, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো বেলুনটি পথ ভুল করে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। খবর বিবিসির।
এদিকে এ বেলুনকাণ্ডে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের চীন সফর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে চীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এটি প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হতে পারত। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি এ বৈঠকের অনুকূলে নেই বলে সফর বাতিল করা হয়েছে। ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দুদিনের সফরে চীনে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনা নজরদারি বেলুন নিয়ে পেইচিংয়ের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় সফর স্থগিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পরামর্শে সফর স্থগিত করার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্লিঙ্কেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বেলুনটি আকাশে ওড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে সেটি যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছায়। দেশটির আকাশসীমায় অনাকাক্সিক্ষতভাবে বেলুনটি উড়ে যাওয়ায় পেইচিং অনুতপ্ত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বেলুনটির নিজের গতিপথে ওড়ার ক্ষমতা সীমিত। এ অবস্থায় এতে অপ্রত্যাশিত বাতাস লাগে। এতে বেলুনটির গতিপথ পরিবর্তন হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চলে যাওয়ার ঘটনা অপ্রত্যাশিত।’
এর আগে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা বেলুনটি গুলি করে ভূপাতিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে বেলুনটি যেসব এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিল, সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের ক্ষতি বিবেচনায় তা করা হয়নি।
চীনা বেলুনটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে দেখা গেছে। ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিমানঘাঁটি এবং ভূগর্ভস্থ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, বেলুনটির উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকাগুলোর ওপর নজরদারি করা। তবে চীনের বেলুন শনাক্তের এ ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক গোয়েন্দা হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করছে না পেন্টাগন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, ‘শনাক্ত হওয়া চীনা গোয়েন্দা বেলুনটি কয়েক দিন আগে মার্কিন আকাশসীমায় ঢোকে। আমাদের গোয়েন্দারা এটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে বেলুনটি খুব বেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না।’
