ইউনাইটেডে ফের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ চেয়ারম্যানের পক্ষে থানায় জিডি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৪৪ এএম

রাজধানী ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও চিকিৎসাসেবায় অবহেলা এবং রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম এনামুল হক চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে ওই হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তার অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এ ব্যবসায়ীর সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের কর্মকর্তা মো. শরিফ গত বুধবার রাতে গুলশান থানায় জিডিটি করেন।

সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গালফ এয়ারলাইনসের একজন বিদেশি পাইলট মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান আলহেন্দিকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় ওই পাইলটের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ আনেন তার বোন তালা আলহেন্দি জোসেফানো। তিনি এ ঘটনাকে চিকিৎসায় অবহেলার মাধ্যমে হত্যা বলে অভিযোগ করেন। এর আগে ২০২০ সালের জুনে পাঁচজন রোগীর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয় গুলশান থানায়। ওই সময় হাসপাতালটির চেয়ারম্যান-এমডিসহ কয়েকজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।

এমএম এনামুল হকের স্বজনরা জানিয়েছেন, গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২৭ জানুয়ারি দেশের এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ৬০৩ নম্বর ভিভিআইপি কেবিনে ভর্তি ছিলেন। গত বুধবার সারা দিন তাকে বিনা চিকিৎসায় কেবিনে ফেলে রাখা হয়। তাকে অত্যাবশ্যক উচ্চমাত্রার ইনজেকশন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগী এমএম এনামুল হক নিজে, তার পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মী ও স্বজনরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে রোগীর কাছে হাসপাতালের একজন কর্মী গিয়ে জানান যে সেদিন (বুধবার) আর কোনো চিকিৎসক আসবেন না এবং ইনজেকশনও দেওয়া সম্ভব নয়। এতে এনামুল হক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এ সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বিরক্ত হয়ে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। পরে হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার রোগীকে বলেন, ‘আমাকে ২ লাখ টাকা দিলে ইনজেকশনসহ ডাক্তারের ব্যবস্থা করে দেব।’ এ সময় ডিউটি ম্যানেজারের সঙ্গে হাসপাতালের অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজন এসে যুক্ত হয়ে একই দাবি জানান। এ অবস্থায় রোগী ও তার স্বজনরা চিকিৎসাসেবার প্রকৃত খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে অসম্মতি জানান। তখন হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা-কর্মীরা রোগীর শারীরিক অবস্থা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রোগী ও তার স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের লোকজন জড়ো হয়ে হইচই শুরু করেন। হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে হাজির হন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাসপাতালের ওই কর্মীদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন। এমন পরিস্থিতিতে পরদিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এনামুল হক সেখানে ভর্তি থাকলেও তার সুচিকিৎসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা অবেহলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. নিউটন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছি।’

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান জায়েদ জানান, বুধবার রাতেই তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনা জেনে মনে হয়েছে, হাসপাতালে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ ব্যবস্থাপক আরিফুল হক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো আমাদের অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য নেই। বিস্তারিতভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমের কাছে আমাদের বক্তব্য জানানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত