ঋণ অনিয়ম আর গুজবের প্রভাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নিচ্ছে মানুষ। এতে তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংকগুলো। যে কারণে ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিতে নতুন নতুন ফান্ড গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দিতে ‘মুদারাবাহ লিক্যুইটি সাপোর্ট’ নামে নতুন ফান্ড গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সুষ্ঠু তারল্য ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৭, ১৪ ও ২৮ দিন মেয়াদী বিশেষ তারল্য সুবিধা ‘মুদারাবাহ লিক্যুইটি সাপোর্ট’ গঠন করা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সপ্তাহের সব কার্যদিবসে নিয়মিতভাবে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর যে সমস্ত জমা রয়েছে সে সমস্ত জমার বিপরীতে তারা অর্থ সহায়তা পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬ ধারা অনুযায়ী এ সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে সুকুকের বিপরীতে অর্থ সহায়তা বা ধার দেওয়া যেত। নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকগুলোকে রিসেভেবলের বিপরীতে ধার দেওয়া যাবে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বিপরীতে যে নগদ আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেয় সেই অর্থ সরকার পরিশোধ করে ৩ মাস বা ৬ মাস পরপর। এ কারণে ব্যাংকগুলো এই অর্থ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জমা থাকে। যেহেতু শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো এখন তারল্য সংকটে ভুগছে তাই তাদেরকে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, শরিয়াহভিত্তিক সব ব্যাংককে টাকা ধার দিয়ে আসছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। তবে ঋণ অনিয়মসহ নানা কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে টাকার জন্য অন্য ব্যাংকের কাছে যাচ্ছে। এর ফলে শরিয়াহভিত্তিক অন্য ব্যাংকগুলোও হঠাৎ তারল্য-সংকটে পড়েছে। সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ ডিসেম্বর শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে ধার দিতে ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি ফান্ড গঠন করে। এ সুবিধার আওতায় ইসলামি ব্যাংকগুলো সুকুক (শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ বন্ড) জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিত। এই ধারের মেয়াদ ছিল ১৪ দিন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি তারল্য সংকটে পড়ে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক টাকা ধার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু আমানত তুলে নেওয়াসহ নানা কারণে ব্যাংকগুলোর সুকুকের বিপরীতে ধার নেওয়ার লিমিটও শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে নতুন করে তাদের জন্য এই ফান্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন এই ফান্ড থেকে তারা ২৮ দিন মেয়াদে ধার বা ঋণ নিতে পারবে।
দেশের ৬১ ব্যাংকের মধ্যে এখন ১০টি ইসলামি ধারার ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির আমানত প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। অন্য ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, আল-আরাফাহ, এক্সিম, শাহজালাল, স্ট্যান্ডার্ড ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।
