নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের পর সরব জি এম কাদের

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৩৭ এএম

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম (গোলাম মোহাম্মদ) কাদেরের দায়িত্ব পালন নিয়ে অধস্তন আদালতের নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে করা রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আট সপ্তাহের এ স্থগিতাদেশ দেয়।

এই স্থগিতাদেশের ফলে জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান তার আইনজীবীরা।

জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত এক আদেশে জি এম কাদেরের কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ও কার্য গ্রহণের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে ১৬ নভেম্বর একই আদালতে সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর ঢাকা জেলা জজ আদালতে আপিল করলে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য গত ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য হয়। তবে বিলম্বে শুনানির তারিখ ধার্যে আপত্তি জানিয়ে জি এম কাদের আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করলে গত বছরের ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিতসহ জেলা জজ আদালতে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির তারিখ দ্রুত করার প্রশ্নে রুল দেয়। 

এই আদেশ স্থগিত চেয়ে জিয়াউল হক মৃধা আবেদন করলে ৩০ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায় চেম্বার আদালত। ১৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন নিষ্পত্তি করে জি এম কাদেরের বিষয়ে অধস্তন আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকা জেলা জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রেখে আদেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের। তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অধস্তন আদালতের আদেশটি যেহেতু স্থগিত হয়ে গেছে, তাই তিনি (জি এম কাদের) এখন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’

‘আমি গণমানুষের পক্ষে কথা বলব’ : কথা বলা মানুষের জন্মগত অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি গণমানুষের পক্ষে কথা বলব, এটা আমার শুধু অধিকারই নয়, কর্তব্যও। ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিলে সরকারের উপকার হয়। মানুষের সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত হলে দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’

গতকাল রবিবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিতের পর এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সভাটি জাপা চেয়ারম্যানের রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেই সমাজে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। জবাবদিহি নিশ্চিত হলেই রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র সফল হয়। প্রজারাই রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেশ পরিচালনার জন্য পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, আবার প্রজাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারবেন।’

দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেই আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই বৈষম্য হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনাপরিপন্থী। দেশে দিনে দিনে বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে। একদল মানুষ তিন বেলা খেতে পারছে না। টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছে না। আরেক দল হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে।’

দেশের মানুষ নিষ্পেশিত হচ্ছে মন্তব্য করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে হাহাকার উঠেছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে এলসি খুলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নেই। হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। কাঁচামাল আমদানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কলকারখানা। প্রতিদিন বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের আয় বাড়ছে না। সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার যেন কেউ নেই।’

সভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজপথে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সভাপতিত্বে এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠানের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মোস্তফা আল মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত