উপসর্গ প্রকাশের আগেই হবে করোনা শনাক্ত

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৪২ এএম

দ্রুততম সময়ে এবং স্বল্প খরচে করোনা শনাক্তের নতুন কিট উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিসিএসআইআর কভিড কিট’। এই কিটের মাধ্যমে খুবই সূক্ষ্ম ও ন্যূনতম ভাইরাসকেও শনাক্ত করা যাবে। রোগের উপসর্গ প্রকাশের আগেই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা সম্ভব হবে। যেখানে বর্তমানে করোনা শনাক্তে ব্যবহৃত আরটিপিসিআরসহ অন্য আমদানি করা কিটগুলোর ন্যূনতম শনাক্তকরণ ক্ষমতা এক হাজার কপি ভাইরাস/মিলি, সেখানে নতুন কিটের ন্যূনতম শনাক্তকরণ ক্ষমতা ১০০ কপি ভাইরাস/মিলি।

এমনকি উদ্ভাবিত নতুন কিট দেশে ব্যবহৃত অন্য কিটের চেয়ে বেশ সাশ্রয়ীও। করোনা শনাক্তকরণে আরটিপিসিআর টেস্টকে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। কিন্তু এ ধরনের কিট অত্যন্ত ব্যয়বহুল, প্রতিটি পরীক্ষায় খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু বিসিএসআইআর উদ্ভাবিত কিট দিয়ে প্রতিটি শনাক্তকরণ টেস্টে খরচ হবে মাত্র ২৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কিটটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএসএমএমইউর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বিসিএসআইআর কভিড কিটে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আফতাব আলী শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আহসান। অনুষ্ঠানে কিটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য নতুন কিট প্রসঙ্গে আরও বলেন, বিসিএসআইআর-কভিড কিট করোনা শনাক্তকরণের জন্য একটি সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি। দেশের ওষুধশিল্পে জড়িত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এই কিটটি উৎপাদনে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের জনগণ উপকৃত হবে। এ ক্ষেত্রে বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা কারিগরি সহায়তা দেবেন।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. আফতাব আলী শেখ বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মহামারী এখনো চলমান এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক শনাক্তকরণ কিট সম্পূর্ণটাই আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস ঘন ঘন তার জিনগত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এতে বাণিজ্যিক কিটগুলোর শনাক্তকরণ সংবেদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুল ফলাফল দিতে পারে। এ ছাড়া জিনগত পরিবর্তনের ফলে যদিও সংক্রমণ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে যেকোনো সময় নতুন ওয়েভ সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যায়। এর ফলে যেকোনো চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের পূর্বে নিয়মিত করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। উদ্ভাবিত নতুন কিট করোনার সব ধরনের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম।

নতুন কিটের অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো ১. এটি ‘এম’ জিনকে টার্গেট করে করা হয়েছে। এম জিনের মিউটেশন তুলনামূলক কম। বিশ্বে প্রথম এম জিনকে টার্গেট করে কভিড ডিটেকশন কিট আবিষ্কৃত হয়েছে। ২. কিটটির জন্য যে প্রাইমার এবং প্রোব ব্যবহার করা হয়েছে তা বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীদের ডিজাইন করা, এ জন্য কিটটি বাজারে প্রচলিতগুলোর চেয়ে ইউনিক। ৩. উদ্ভাবিত কিটের নির্দিষ্টতা, সংবেদনশীলতা এবং যথার্থতা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের সমমান ও বাণিজ্যিক কিটগুলোর থেকে উন্নতমানের। ৪. কিটটি গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে আরএনএ এক্সট্রাকশন পদ্ধতিতে উদ্ভাবন করায় স্বল্প খরচে কভিড-১৯ টেস্ট করতে সক্ষম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত