আগ্রহী ঠিকাদার পাচ্ছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৯ পিএম

যাত্রীসেবার মান ও যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও ঠিকাদার পাচ্ছে না রেলওয়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে এসব ক্যারেজ সংস্কার করতে চায় সংস্থাটি। তবে করোনার সময় কাজ করতে ও ঠিকাদার নিয়োগ দিতে না পারায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

ব্যয় বাড়ানোর কারণ হিসেবে রেলওয়ে বলছে, চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন প্যাকেজের মূল্য সংশোধন, বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে স্থানীয় ও বৈদেশিক মালামালের মূল্য নির্ধারণ, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কিছু খাত বাদ দিয়ে আবার নতুন খাত সংযোজন করার কারণে এর ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের মাঝপথেই ব্যয় ১০ কোটি টাকা বাড়িয়ে মেয়াদও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদনের সময় এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী গাড়ির মেরামত ব্যাকলগ ও গাড়ির প্রাপ্যতা বাড়বে। বাড়বে যাত্রীসেবার মান ও রেলওয়ের রাজস্ব।

প্রকল্প সংশোধনের ব্যাখ্যায় রেলওয়ে বলছে, প্রকল্পের কাজে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে বিভিন্ন মালামাল স্থানীয় পর্যায় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তবে রেলওয়ে দাবি করেছে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কোনো দরদাতা না পেলেও বৈদেশিক মুদ্রার সমন্বয় করতে চায় সংস্থাটি।

তবে প্রকল্প পরিচালক তাপস কুমারের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে চাইলে জানা যায়, পদোন্নতি পেয়ে অন্য স্থানে বদলি হয়েছেন। নতুন প্রকল্প পরিচালক মাত্রই যোগ দেওয়ায় তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

রেলওয়ে প্রকল্প সংশোধনের আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, করোনা মহামারীর কারণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রস্তাবিত অধিকাংশ মালামালের দাম বেড়ে গেছে। ফলে বেড়ে যাওয়া দরে মালামাল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেসব প্যাকেজের মালামাল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না, তার জন্য নতুন দরে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, উন্মুক্ত দরপত্রের কারণে দেশের অধিকাংশ প্যাকেজে অনেক মালামালের দাম কমেছে। আবার কোনো কোনো প্যাকেজের মালামালের দাম বেড়েছে। চুক্তিমূল্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্যাকেজের দাম সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

মূল প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) মোট ১২৮টি প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশোধনীতে তা কমিয়ে ১১৭টি প্যাকেজে আনা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়া প্রকল্পের আওতায় গাড়ি কেনার প্যাকেজ বাদ দেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে ৯০৭টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ বা ক্যারেজ এবং প্রায় ২ হাজার ৫৩০টি ওয়াগন আছে। এই ক্যারেজ ও ওয়াগনগুলোর কোনো ধরনের মেরামতসহ যেকোনো কাজের জন্য একমাত্র স্থাপনা হলো পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগান কারখানা। এই কারখানায় ২ হাজার ১২৬ জনবল মঞ্জুরির বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক।

আবার ক্যারেজ ও ওয়াগনগুলোর প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, যেগুলো আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এসব ক্যারেজকে কাজের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। কিন্তু পাহাড়তলী কারখানায় জনবলের স্বল্পতা ও বাড়তি অর্থের সংস্থান না থাকার কারণে বেশি মেরামত প্রয়োজন হওয়া গাড়িগুলোর কাজ পড়ে থাকে। এতে করে ভারী গাড়িগুলোর কাজ জমে ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, ১০০টি জিওএইচ ওভারডিউ গাড়ি প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পটি অনুমোদন হয় ২০২০ সালে। অনুমোদনের সাত মাস পর কাজ শুরু এবং মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় কাজ বন্ধ থাকে। এখন প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় দুটিই বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত