ডলার সংকেটর কারণে বীজ আমদানি বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)। প্রয়োজনীয় ডলার না মেলায় সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে বীজ আমদানি করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিএসএ উপদেষ্টা আনোয়ার ফারুক।
১১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় তিন দিনের ‘বাংলাদেশ সিড কংগ্রেস’ সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ফারুক বলেন, আমরা যখন হাইব্রিড বীজ উৎপাদন, আমদানি শুরু করি; তখন অনেক সমালোচনা ছিল। কিন্তু আজ আমরা নিজেদের প্রয়োজনে হাইব্রিড বীজ আনছি। তখন সবাই বলত, প্রাইভেট সেক্টরের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। প্রাইভেট সেক্টর না থাকলে আজ সবজির ফলন এত ভালো হতো না। সবজির বীজের ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে প্রাইভেট সেক্টর।
বিএসএর এই উপদেষ্টা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অন্যদের মতো ডলার ক্রাইসিস আমরাও মোকাবিলা করছি। এর জন্য আমরা সামনে বীজ আমদানি করতে পারব না। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সরকারকে বারবার বলছি, আমরা যেন খাবারটাকে প্রাধান্য দিই।
মানসম্মত বীজ ছাড়া যে কৃষিতে ভালো ফলন সম্ভব নয়, তা মনে করিয়ে দিয়ে সাবেক এই কৃষি সচিব বলেন, একটি জমিতে ফসল বাড়বে কি কমবে, তার মূল বিষয় হলো কোয়ালিটি বীজ। বীজ উন্নত না করতে পারলে ফলন বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। তবে বীজ ব্যবসাকে শক্তিশালী করার জন্য সিড সার্টিফিকেশন এজেন্সিকে আরও সচেতন হতে হবে।
এসময় বিএসএর সিনিয়র সহসভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, বলা হয় ফলন বাড়ছে না সেভাবে। কিন্তু কৃষকের জ্ঞানমানকে যদি একটু আপডেট করা যায়, তাহলে বর্তমান প্রযুক্তি দিয়েই ফলনটা বাড়ানো যাবে। ২০০৯ সালে দেশের মোট বীজ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ছিল মানসম্পন্ন বীজ, বর্তমানে এ হার ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে আলু, সবজি, ভুট্টা, ধান, পাট ইত্যাদি বীজের ক্ষেত্রে এ হার ৫৯ দশক ২ শতাংশ।
দেশে এখন বছরে সাড়ে ১২ লাখ টন বীজের প্রয়োজন জানিয়ে এই সরবরাহকারী বলেন, মোট বীজের ৫৩ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। ধান বীজের ৪৪ শতাংশ, হাইব্রিড ধানের ৯৭ শতাংশ, ভুট্টার ৯৯ শতাংশ, সবজি বীজের ৮৬ শতাংশ, আলু বীজের ৭৪ শতাংশ, পাট বীজের ৮৩ শতাংশ বীজ আসে বেসরকারি খাত থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ সিড কংগ্রেস ২০২৩’ হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ মেলায় দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মী, বীজ ডিলার, বীজ ব্যবসায়ী, বীজ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষিবিদ, ব্যাংকার, শিক্ষক ও কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় জনা পঞ্চাশেক বিদেশি প্রতিনিধি থাকবেন। মেলায় মোট ১৩টি প্যাভিলিয়ন ও ৬০টি স্টল থাকবে, যার মধ্যে ১০টি বিদেশি স্টল থাকবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানের স্টল মেলায় থাকছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।
