কাগজের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বইয়ের মূল্যে। ফলে বই নেড়েচেড়ে দেখেও বেশি দামের কারণে কিনতে পারছেন না অনেক পাঠক। বইপ্রেমীদের অভিযোগ, এ বছর বইয়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তবে প্রকাশকরা বলছেন, সবকিছুর দাম বৃদ্ধির কারণে বইয়ের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বইয়ের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অনিন্দ্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন বলেন, বৈশ্বিক মন্দার কারণে কাগজ, পুস্তক বাঁধাইয়ের সামগ্রী, ছাপাখানার প্লেট ও কালির দাম বাড়তি। তাই বইয়ের দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই।
এদিকে মেলায় নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরনো বইয়ের দামও বেশি বলে অভিযোগ পাঠকদের।
বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন সরকারি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রউফ খান। তিনি বলেন, এবার বইয়ের দামটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। এত দাম হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা কীভাবে বই কিনব। বইয়ের দাম বেশি থাকার কথা স্বীকার করে সময় প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীরা বলেন, আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইয়ের লেখার মান ভালো। এখানে খুব ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করা হয় তাই দাম একটু বেশি।
নতুন বই : অমর একুশে বইমেলার গতকাল ছিল নবম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। নতুন বই এসেছে ১২৩টি।
বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : কবীর চৌধুরী এবং জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : সাংবাদিক-সাহিত্যিক জহুর হোসেন চৌধুরী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবদুস সেলিম ও জাহীদ রেজা নূর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, খায়রুল আলম সবুজ, মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং মুস্তাফিজ শফি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শফি আহমেদ।
প্রাবন্ধিকদ্বয় বলেন, এক জীবনে কত যে বিপুল কর্মকানে্ডর সঙ্গে জড়িত থাকা যায় তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ কবীর চৌধুরী। তিনি বাংলা-ইংরেজিতে যেমন মৌলিক লেখা লিখেছেন তেমনি অনুবাদও করেছেন এবং তার জীবদ্দশায় কমপক্ষে দশটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কবীর চৌধুরী যথার্থ অর্থেই জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন সবারই শিক্ষক হওয়ার গুণসম্পন্ন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। অপরদিকে সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের লড়াইয়ের কালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যৌবনে বামধারার প্রতি আকৃষ্ট জহুর হোসেন চৌধুরীর সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য হলো বস্তুনিষ্ঠতাকে হেয় না করে সত্যকে তুলে ধরা।
আলোচকরা বলেন, কবীর চৌধুরী এবং জহুর হোসেন চৌধুরী উভয়েই প্রগতির পথিক। তারা একটি শতাব্দীজুড়ে স্বাধীনতা, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িকতার জন্য লড়াই করে গেছেন। শিক্ষা বিস্তার, সাংবাদিকতা এবং সমাজ-রাষ্ট্রের সামূহিক ইতিবাচক বিকাশের জন্য তাদের সংগ্রামী অভিযাত্রা কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।
সভাপতির বক্তব্যে শফি আহমেদ বলেন, কবীর চৌধুরী এবং জহুর হোসেন চৌধুরীকে স্মরণ আমাদের জাতিগত কর্তব্য। তারা যে প্রতিকূল পরিবেশে আমাদের সবার জন্য ইতিবাচক সমাজ গড়ার সংগ্রাম করেছেন; তা আজকের প্রজন্মকে স্মরণে রাখতে হবে।
গতকাল ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মালেক মাহমুদ, সুপা সাদিয়া, খান মুহাম্মদ রুমেল, গিরীশ গৈরিক।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন বিমল গুহ, স্নিগ্ধা বাউল এবং রমজান মাহমুদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রাজিয়া রহমান, জাহান বশির এবং এএসএম সামিউল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া, আব্দুর রহমান, বশির উদ্দিন সরকার, সুভাষ বিশ্বাস, কোহিনুর আক্তার গোলাপী, মো. নূরুল ইসলাম, বিমল বাউল, সুধীর ম-ল, অমিয় বাউল। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন পুলিন চক্রবর্তী (তবলা), মো. রিফাত হোসেন (কি-বোর্ড), রণজিৎ কুমার বৈরাগী (দোতরা), গাজী আব্দুল হাকিম (বাঁশি) এবং মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল)।
আজকের সময়সূচি :
আজ ২৭ মাঘ ১৪২৯/১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ শুক্রবার। অমর একুশে বইমেলার দশম দিন। মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
শিশুপ্রহর : আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় শিশুপ্রহর চলবে।
শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা : অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন শিল্পী হাশেম খান।
শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা : আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ এবং জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : এসএম সুলতান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মলয় বালা এবং সৈয়দ নিজার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুশান্ত কুমার অধিকারী, ইমাম হোসেন সুমন, নাসির আলী মামুন এবং নীরু শামসুন্নাহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুনতাসীর মামুন।
