ড. মোরশেদ শফিউল হাসান একাধারে প্রাবন্ধিক, সমালোচক, কবি, গবেষক ও সাংবাদিক। এ-পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের মতো। প্রবন্ধ ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন এই লেখক।
গতকাল বইমেলার দশম দিনে অনুপম প্রকাশনীতে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে ড. মোরশেদ শফিউল হাসানের আলাপ হলে তিনি বলেন, আমাদের বইমেলা হচ্ছে। নতুন নতুন বই প্রকাশ পাচ্ছে। তরুণ লেখকরাও উঠে আসছে। কিন্তু লেখার জন্য যে প্রস্তুতির দরকার, সে বিষয়টি কমেছে বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বইয়ের সম্পাদনা কমে যাওয়ায় অনেক বই মানহীন। বই প্রকাশের পূর্বে যদি সঠিক সম্পাদনা হতো, তাহলে পাঠকরা মানসম্মত বই পেত।
প্রকাশকরা এখন পদাধিকারী, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মানহীন বই ছাপছে।
মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মেলায় কোন প্রকাশনী কী কী ভালো বই আনছেন সেটা আমরা কেউ বলতে পারছি না। অন্যদিকে কাগজের মূল্য বাড়ায় অনেক পাঠক বই কেনার সামর্থ্য রাখেন না। কিন্তু ব্যবস্থাপনার জায়গা থেকে বইয়ের প্রচারকে আরও সহজ করে তুললে পাঠকদের ভালো বই পেতে সুবিধা হতো।
নতুন প্রজন্মের বাংলা ভাষার ওপর আগ্রহের জায়গা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের কাছে বাংলা ভাষার প্রতি টান খুব কম দেখছি। বাংলায় অনার্স অনেক পরের বিষয়। তারা বাংলা মিডিয়ামে পড়তে চায় না। এর জন্য আমাদের পরিবারগুলো দায়ী। তারা তাদের সন্তানকে বাংলায় পড়াতে চায় না।
ড. মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, ভালোবেসে কেউ বই কিনছে না। পরিচিত কিংবা অফিসের কলিগ বই প্রকাশ করেছে তাদের খুশি করতে বই কেনেন অনেকে। বাসায় এসব বইয়ের ঠিকানা হয় স্টোর রুমে।
সচেতন পাঠক চেয়ে তিনি বলেন, আমাদের পাঠকদের সচেতন হতে হবে প্রকাশক ও লেখককে সাহসের সঙ্গে ভুল ধরিয়ে দিতে।
