বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করতে চান মুন

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৩ এএম

শুরুটা এন্ড্রয়েড ফোন দিয়ে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় শখের বশে টুকটাক প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ছবি তুলতেন। এসএসসি পরীক্ষার পর বাবাকে রাজি করিয়ে কিনে ফেললেন ক্যামেরা। এরপরের সময়টা শুধুই উত্থানের। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছেলে মুন এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার। মুনের পুরো নাম মির্জা মুন হৃদয়। বর্তমানে মুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছেন। সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ইন্সটাগ্রাম পেজে ‘ডেথ অব কিস’ শিরোনামে তার একটি ছবি প্রকাশিত হওয়ায় ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হিসেবে সবার প্রশংসায় ভাসছেন মুন। ছবি প্রকাশে ভীষণ উচ্ছ্বসিত মুন। তিনি জানান, সব ফটোগ্রাফারের ইচ্ছে থাকে তাদের ছবি কোনো বড় নিউজ মিডিয়াতে থাকুক, যেমন ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি, ডিসকভারি, আমার ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে পাবলিশ হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া, আমার পাঁচ বছরের কষ্টের ফল।

বগুড়ার ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার আদনান আজাদের কাজ দেখে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি বিষয়ে আগ্রহ জাগে মুনের। তারপর এন্ড্রয়েড ফোন দিয়ে গৃহস্থালি পশুপাখির ছবি তোলার চেষ্টা। মুন জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর বাবাকে রাজি করিয়ে ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনেন। তারপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। ছেদ পড়েনি মুনের সাধনায়। তারই ফলে একে একে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জমা হচ্ছে মুনের ঝুলিতে। পড়াশোনা আর প্যাশন দুটোর ভারসাম্য রক্ষা করে ঠিকই দুর্লভ সব ছবি তুলে চলেছেন মুন। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফির জন্য প্রয়োজন হয় সময়, পশুপাখির বিশেষ মুহূর্তকে ধরতে করতে হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার ফাঁকে বের করতে হয় সে সময়। ছুটির দিনগুলোতে মুন বেছে নেন ছবি তুলতে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাক্সিক্ষত ছবি পাওয়া যায় এমনটা নয়। মুন জানালেন, একবার বগুড়ায় Black Naped Monarch(নীল ঘাড় রাজন) পাখির বাচ্চাসহ ছবি তোলার জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করেও ছবিটি তুলতে পারেননি। কাক্সিক্ষত ছবিটি তুলতে না পারলে নিশ্চয় মন খারাপ হয় কিন্তু বিভিন্ন সম্মাননা সেসব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। মুন ফটোগ্রাফির জন্য দেশের নানা পুরস্কার পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালে ইতালির মর্যাদাপূর্ণ sieana award’ ও ২০২১ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘Fuzia Weather Contest’ প্রথম পুরস্কার।

ভবিষ্যতে মুন ভারতের বিখ্যাত ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ভারুণ আদিত্যর মতো একজন বড় ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হতে চান। তিনি শুধু নিজে বিখ্যাত হতে চান না বরং তিনি নিজের কাজে মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে রাখতে চান অবদান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত