বছরে ৩০ হাজার থ্রি-হুইলার উৎপাদন করবে রানার

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৪ এএম

ভারতীয় কোম্পানি বাজাজের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশে থ্রি-হুইলার উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছে রানার অটোমোবাইলস। নতুন এই কারখানায় বছরে ৩০ হাজার থ্রি-হুইলার অটোরিকশা উৎপাদন করা যাবে। দেশে থ্রি-হুইলার উৎপাদনের এটিই প্রথম কারখানা। গতকাল ময়মনসিংহের ভালুকায় ১০ একর জায়গার ওপর নির্মিত কারখানাটির উদ্বোধন করা হয়।

রানারের থ্রি-হুইলার প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও কাজিম উদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানসহ অটোমোবাইল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে বাহনটি উৎপাদনে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার বাড়তে থাকবে এবং এর দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাজাজের সহযোগিতায় দেশে এলপিজি ও সিএনজিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা তৈরি ও বাজারজাত শুরু করেছে রানার অটোমোবাইলস। রানার-বাজাজ ব্র্যান্ডের এই বাহনটি উৎপাদনে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার অন্তত ৭০ শতাংশ হবে বলে মনে করছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান রানার।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে উৎপাদন হলেও এখনো থ্রি-হুইলারটি তৈরিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মতো যন্ত্রাংশের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে। তবে আমরা এটা তৈরিতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে চাই। রানার যে পথে হাঁটছে, তার ফলে সেটা হয়তো অদূরেই দেখা যাবে। সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পনীতি ও অটোমোবাইলস শিল্পের প্রসারে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। বাজাজ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে আছে। রানারকেও তাদের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, অনেক ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন নেই। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আমরা এ-ও জানতে পারছি না যে কার গাড়ি কে চালাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ একর জমিতে গড়ে ওঠা রানারের প্ল্যান্টটি প্রতি বছর ৩০ হাজার থ্রি-হুইলার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বাজাজ অটোর প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ইঞ্জিনের কিছু উপাদান ছাড়াও ওয়েল্ডিং, ড্যামিস ও বডিসহ অধিকাংশ যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি হবে। এই কাজের জন্য নতুন করে আরও ৩০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

হাফিজুর রহমান খান বলেন, এই প্লান্ট স্থাপনে বিদেশ থেকে আসা ৪০০-এর মতো শ্রমিক কাজ করেছেন। তাতে বাজাজসহ দেশি আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করেছে। ব্যাংকগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, উত্তরা মোটরস শুরু থেকেই দেশে থ্রি-হুইলার আমদানি ও বাজারজাত করে। রানারের উৎপাদিত থ্রি-হুইলারও উত্তরা মোটরস বাজারজাত করবে, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অটোমোবাইলস রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে রপ্তানিতে বহুমুখিতা আসবে এবং প্রচুর বিদেশি মুদ্রা আয় হবে।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে রানারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সুবীর চৌধুরী বলেন, রানার বাংলাদেশে মোটরসাইকেল শিল্পে প্রথম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ থ্রি-হুইলার শিল্পে পা রাখলাম। আমাদের প্রত্যাশা, মোটরসাইকেলের মতো এই শিল্পেও আমরা সফলতা পাব।

বাজাজ অটোর প্রেসিডেন্ট কে এস গৃহপতি বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশের প্রথম কোনো থ্রি-হুইলার কারখানা নয়, ভারতের বাইরে বাজাজ থ্রি-হুইলারেরও প্রথম কোনো কারখানা। আমরা রানারের সঙ্গে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পের উন্নয়নে বাজাজ কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশে পাঁচ লাখের মতো থ্রি-হুইলার গাড়ি চলে, কিন্তু মাত্র এক লাখের নিবন্ধন আছে। এসব গাড়ি কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইজিবাইকের নিবন্ধন পরিস্থিত আরও খারাপ এ কথা উল্লেখ করে মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের নানা জায়গায় ৫০ লাখের মতো ইজিবাইক চলছে, কিন্তু এদের কোনো কিছুই নেই। এসব বাহনকে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন শিল্প দাঁড় করাতে হবে। অটোমোবাইল খাতে রানারের উদ্যোগ সেই পথ দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা মোটরসাইকেল রপ্তানি করছে। অটোমোবাইল খাতে ভালো করার জন্য শক্তিশালী সংযোগ শিল্প স্থাপন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত