ব্যাংকিং সব সেবা একত্র করবে জয়তুন-একপে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৫ এএম

গ্রামাঞ্চলের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি বাড়াতে কাজ করবে ‘ভিলেজ ডিজিটাল বুথ’। গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে গড়ে উঠেছে ‘জয়তুন বিজনেস সলিউশনস’। প্রতিষ্ঠানটির কাজ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন চেয়ারম্যান মো. আরফান আলী, যিনি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- এ জেড ভূঁইয়া আনাস।

দেশ রূপান্তর : জয়তুন বিজনেস সলিউশনস কী কাজ করবে?

আরফান আলী : নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ ব্যাংক ব্যবস্থায় একটি বড় রকমের পরিবর্তন তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা কিছুটা হলেও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে, পেমেন্ট সার্ভিসটিকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনেক ব্যাংক এখন এগিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি ভালো দিক। গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট সেবাকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইন্টার অপারেবল সিস্টেম। এছাড়া ট্রানজেকশনের জন্য একটি ব্যাংকের সঙ্গে অন্য ব্যাংক যুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে এসেছে বাংলা কিউআর কোড। বাংলা কিউআর’র সুবিধা যদি গ্রামে পৌঁছায় তাহলেই গ্রামের লোকজন যে কোনো ব্যাংকের অ্যাপ, কার্ড বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবে। এই বিষয়টিকে বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে আমরা গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছি। প্রতিটা গ্রামে একটি ডিজিটাল বুথ থাকবে। যে ডিজিটাল বুথের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হবে।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের মূল লক্ষ্য কী এবং কত বছরের মধ্যে আপনাদের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন?

আরফান আলী : আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এটা আমরাই করব, এমন নয়। এটা সবাই মিলেই করবে। এটা সরকারেরও এজেন্ডা। আমরা এই এজেন্ডাকে বাস্তবায়নে মনেপ্রাণে চেষ্টা করব। এটি বাস্তবায়ন হলে আমাদের একটি তৃপ্তির জায়গা তৈরি হবে। এজন্য আমাদের সময় নিতে হবে। আমাদের পাঁচ বছরের টার্গেট আছে। এর মধ্যে সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করতে কাজ করব। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা আশা করি ৫০ শতাংশ অ্যাকাউন্ট আমাদের মাধ্যমেই হবে।

দেশ রূপান্তর : ভিলেজ ডিজিটাল বুথ কীভাবে কাজ করবে?

আরফান আলী : টেকনিক্যালি একটি মোবাইল অ্যাপ, একটি পজ মেশিন অথবা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে। এই মেশিনগুলো আসলে একটি

প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করবে। পেমেন্ট সার্ভিসটাকে মূলত ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছি আমরা। পরে ব্যাংকিং পার্টনার নিয়ে আমরা আমানত গ্রহণ ও ঋণ বিতরণের কাজ শুরু করব। অনেক ব্যাংক গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করতে পারে না, আমরা সেই সব জায়গায় কাজ করব। এটি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে পারবে। সুতরাং আমাদের বিশ্বাস যে ভিলেজ ডিজিটাল বুথ প্রতিটি গ্রামে গ্রামে উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। গ্রামের একটি শিক্ষিত যুবক অথবা যুবতী এই ডিজিটাল বুথের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স, ই-কমার্স সার্ভিস এবং ব্যাংকিং সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে পারবে। এতে নতুন করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

দেশ রূপান্তর : দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সাধারণত শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে, এক্ষেত্রে আপনাদের ডিজিটাল বুথ কতটা কার্যকর হবে?

আরফান আলী : এটা সাধারণত মানুষের অভ্যস্ততা তৈরির বিষয়। আজ যেমন ফিজিক্যাল টাকা অর্থাৎ প্রিন্টেড মানি রয়েছে, এটি সব সময় ছিল না। এক সময় স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা ও কড়ি দিয়ে মানুষ তাদের লেনদেন পরিচালনা করত। এখন তারা টাকার ব্যবহার করছে। আস্তে আস্তে মানুষ ডিজিটাল মানিতেও অভ্যস্ত হবে। তখন নগদ টাকা না দিয়েও ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড বা মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করবেন তারা। এটা মানুষকে বুঝাতে হবে। এখন শহরে যারা চাকরিজীবী তারা লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণত ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেন। এই অভ্যস্ততা একদিনে তৈরি হয়নি, বেশ সময়ে লেগেছে। তাদের এখন বুথে বা ব্যাংকের ব্রাঞ্চে যেতে হয় না খুব বেশি। আর তারাও নগদে খুব বেশি টাকা রাখেন না। এটা যেভাবে সম্ভব হয়েছে গ্রামের বিষয়টিও সেভাবেই হবে।

দেশ রূপান্তর : কিছুদিন আগে চালু হওয়া দুটি অ্যাপের সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় নতুন করে আবারও তার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনারা কতটুকু প্রস্তুত?

আরফান আলী : আমাদের সঙ্গে কাজ করবে এটুআই’র একপে। এটা মার্কেটে ২-৩ বছর থেকে কাজ করছে। এখন আমরা নতুন করে এটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আউটলেট প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। সে ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোনো বড় চ্যালেঞ্জ হবে বা সিস্টেমে তেমন কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। আমরা চালু থাকা অ্যাপকেই আরও জনপ্রিয় করতে কাজ করব। এটার মাধ্যমে যে সব ধরনের বিল পরিশোধ করা যায়, তা এখনো মানুষ জানে না। এছাড়া ৬১টি ব্যাংককে ই-কেওয়াইসি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি তো সবাই যুক্ত করতে পারে। এটার জন্য কোনো ইন্টার অপারেবল সিস্টেমের প্রয়োজন হয় না। এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রচারণা দরকার।

দেশ রূপান্তর : আপনারা বলেছেন, ডিজিটাল বুথের মাধ্যমে মানুষ ঋণ নিতে পারবে। এটা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন?

আরফান আলী : ব্যাংকার হিসেবে যেটা দেখেছি, ঋণের দুটি সমস্যা হচ্ছে, মনিটরিং এবং ব্যবহার। অর্থাৎ টাকা নিয়ে কোন খাতে দেওয়া হচ্ছে, সেটা। আর টাকা নেওয়ার পর এই টাকা ফেরত আসবে কি না তার মনিটরিং করা। যেহেতু এই বুথগুলোতে কাজ করবে ওই এলাকারই কোনো যুবক। সুতরাং তিনি তো বুঝতেই পারবেন, ওই গ্রামে কাকে ঋণ দেওয়া যাবে বা যাবে না। অর্থাৎ ব্যাংকের প্রাথমিক কাজ তিনিই শেষ করে  দেবেন। এরপর যেই ব্যাংক ইতিবাচক মনে করবে সেই ব্যাংক গিয়ে ঋণ দেবে গ্রাহককে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে মূলত ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে। গ্রামে যে ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত হয় সেই কর্মকা-কে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই বুথ কাজ করবে বলেও মনে করেন সাবেক এই ব্যাংকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত