স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা মুখ্য। পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করছে বলেই আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৮ বছরে পদার্পণ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু আহ্বান করেছিলেন বাংলাদেশের পুলিশকে জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্য। আজ পুলিশ সে জায়গাটিতে এসেছে। জনগণের আস্থার জায়গা, বিশ্বাসের জায়গাটাতে পুলিশ আসছে। পুলিশ আজ জনগণের বন্ধু।
বঙ্গবন্ধু ডিএমপি তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার প্রচেষ্টাতেই ডিএমপির যাত্রা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আজ ডিএমপি ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ৫০টি থানাসহ ডিএমপিতে আরও ইউনিট রয়েছে, যারা সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
জঙ্গি উত্থানের কারণে যখন আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম, হোমগ্রোন টেররিস্ট এবং আন্তর্জাতিক টেররিস্টের যোগসাজশে জঙ্গি উত্থানের যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডিএমপিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রতিষ্ঠা করি। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জঙ্গি দমন তারা করতে পেরেছে।
আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ২০১৪-১৫তে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করার দৃশ্য আপনারা দেখেছিলেন। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্য দেখেছেন। তখন পুলিশ কাজ করেছে, অনেক পুলিশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন। প্রত্যেকটা আন্দোলন, প্রত্যেকটা সংকটে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে, বীরত্বের সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই আজ বাংলাদেশের এই দুর্বার অগ্রগতি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি, এর পেছনের শক্তিটা হলো শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছি বলেই এগিয়ে যাচ্ছি। পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ঢাকায় ২ কোটি মানুষের বাস, এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা সহজ কথা নয়। কিন্তু ডিএমপি ঢাকাবাসীকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বর্তমানে ডিএমপির ৫০টি থানাতে ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। সম্মানিত নগরবাসীর সঙ্গে ডিএমপির সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে মূল লক্ষ্য। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আগুনসন্ত্রাস, হলি আর্টিজানে জঙ্গি আক্রমণ দমনে ডিএমপির ভূমিকা বাংলাদেশে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানের দক্ষতা অর্জনে ডিএমপি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, বর্তমানে ডিএমপির সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভবিষ্যতে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালালে তাহলে জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটি, বৈচিত্র্যময় মহানগরী ঢাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা, অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও বিনিয়োগবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে টিম ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের মুখচ্ছবি হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জঙ্গি, সন্ত্রাস, নাশকতা দমন, স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ও জনমনে পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা; সমসাময়িক অপরাধীদের ধরন ও গতি-প্রকৃতির ধরন বিবেচনা করে বিশেষত সাইবার অপরাধ দমনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে যুগোপযোগী পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
দুস্থ শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ : প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করেছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন। শনিবার উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পোশাক বিতরণ করা হয়। এসময় কেক কাটার মাধ্যমে ডিএমপির প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়।
উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হুমায়রা পারভীন জানান, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন যেহেতু অসহায় নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করে সেহেতু আজ এই আনন্দের দিনে অসহায় দুস্থ শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।
