‘ব্র্যাক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শোনায়। দেখায় মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে।’ এভাবেই সমাপনী বক্তব্য দিলেন ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ সালেহ। বিশে^র সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই সব অনুষ্ঠানে নানাভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্র্যাককে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে অতিথিদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা তো ছিলই।
টানা তিন দিনের এ আয়োজনে কমতি ছিল না কোনো কিছুরই। দিনভর অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শুনিয়েছে তাদের নিজেদের কথা। শুনেছে যারা তাদের নয়, তাদের কথাও। সমাপনী দিনে তাদের কাছে শোনা গেল আগামী দিনের কথা। নিজের দেশ, সেই সঙ্গে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার আকাক্সক্ষার গল্পও। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী শামেরান আবেদ দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ‘মানুষের শক্তি আর আশার জয় হবেই’।
প্রায় ৯০ হাজার মানুষের এই বিশাল পরিবার এ তিন দিন বারবার স্মরণ করেছেন সংস্থাটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদকে। বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয় তাকে নিয়ে। যাতে উঠে এসেছে তার কর্ম ও জীবনবোধের কথা। তার আশা ও অকৃত্রিম আকাক্সক্ষার কথা। তার স্বপ্ন ঘিরেই আবর্তিত ব্র্যাক যেন আজও তার মানবপ্রেমে নিবেদিতপ্রাণের গুঞ্জন থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।
৫০ বছর পূর্তি নানাভাবে পালন করেছে ব্র্যাক। নিজেদের সাজিয়েছে, গুছিয়েছে, দেখিয়েছে। তাদের স্বপ্ন, স্বপ্নপথের যাত্রা, প্রতিবন্ধকতা সব গল্প শুনিয়েছে। সেই সঙ্গে রেখেছিল মানুষকে আনন্দদানের নানা উপসর্গ। কোনো কিছুতেই ক্লান্তি ছিল না, ছিল না খামতি।
অনুষ্ঠান ছিল শিল্পের, সংস্কৃতির, নাটকের, গানের, কবিতার। অনুষ্ঠান ছিল বহুমাত্রিক। অনুষ্ঠানে ছিল পুঁথিপাঠ, ছিল মঞ্চনাটক, আবার ছিল আধুনিক গানের মহাতারকাদের পদচারণ। আসলে কী ছিল না, সেটাই প্রশ্ন!
আভিযাত্রিক তরুণদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি ব্র্যাক বাংলাদেশ আর বাঙালিয়ানার গল্প বলেছে। ব্র্যাক-নির্বাহীই বলেছেন এই সংস্থাটি কী চায়, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মানিয়ে চলা মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলব। বাংলাদেশের স্বকীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছে ব্র্যাক। রোলমডেল আমাদের আশপাশেই আছে। সমাজ আমাদের, দেশ আমাদের, আমাদের সবাইকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।’
সেই ইতিবাচকতার দিকে পা পা করে এগিয়েই আজ সমৃদ্ধ ৫১তে পা রাখল ব্র্যাক।
