সর্বত্র দ্রুত ও সহজ উপায়ে টাকা পাঠানোর মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখেরও বেশি, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি যোগ হয়েছে গত চার বছরে। শুধু গ্রাহক নয়, এ সময় বেড়েছে এজেন্ট ও লেনদেনও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেটের মাধ্যমে সেবাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সেবায় গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। আর গেল বছরের ডিসেম্বর শেষে গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।
আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেড়েছে লেনদেনও। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। ৪ বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচিত সময়ে লেনদেন বেড়েছে ৬৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এমএফএসের এজেন্টের সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫১০টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬৩৭টি।
এ বিষয়ে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের যেই ইকো সিস্টেম তা দিন দিন বড় হচ্ছে। এমএফএস প্রোভাইডাররা এখন নতুন নতুন সেবা যুক্ত করছে। এ ছাড়া সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ কারণে গ্রাহক লেনদেনসহ সব সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
বিকাশে বর্তমানে সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রাহকরা এখন ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে ঝুঁকছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় অ্যাপ, বাংলা কিউআর কোডের কারণে মানুষ এমএফএসে আরও বেশি ঝুঁকবে বলেও মনে করেন বিকাশের এই কর্মকর্তা।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছিল ৮৯ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে কিছুটা কমে লেনদেন হয়েছিল ৮৭ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এরপরের মাস সেপ্টেম্বরে ৮৭ হাজার ৬৩৫ কোটি, অক্টোবরে ৯৩ হাজার ১৩ কোটি, নভেম্বরে ৯২ হাজার ১২৫ কোটি এবং সদ্য বিদায়ী বছরের সর্বশেষ মাস ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছে ৯৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনের লেনদেন ছাড়াও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধ করা যায়, করা যায় কেনাকাটা। সেবামূল্য পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, প্রবাসী আয় পাঠানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এখন পছন্দের শীর্ষে। বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় ডিসকাউন্টও মিলছে। কম খরচ ও দ্রুত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে টাকা পাঠাতে প্রতিদিনই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য হিসাব খুলছেন বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। প্রতিমাসেই বাড়ছে গ্রাহকসংখ্যা।
মোবাইলে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বাবদ বিতরণ হয় ১৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা।
