তল্লাশির মুখে বিবিসির কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:১১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই কার্যালয়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে ভারতের আয়কর কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো তল্লাশি চলছে বিবিসির দুই কার্যালয়ে। আয়কর কর্মকর্তারা বিবিসির আর্থিক তথ্যের অনুলিপি সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তোপের মুখে পড়ে সম্প্রচার বিভাগ ব্যতীত সবাইকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বিবিসি কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যমটি এক ইমেইলে কর্মচারী ও কর্মীদের বলেছে, তাদের কাছে ব্যক্তিগত আয় নিয়ে জানতে চাইলে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকার সুযোগ রয়েছে। অন্যত্থায় তারা যেন আয়কর বিভাগকে সহযোগিতা করেন।

বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আয়কর কর্মকর্তারা বিবিসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জেরা করেন এবং ‘ট্র্যাক’, ‘বিল’ এবং ‘কালো টাকা’ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে কর্মীদের কম্পিউটারে তল্লাশি চালান। সূত্র জানিয়েছে, বিবিসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মীর মোবাইল ফোন ক্লোন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিবিসির বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে দুই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এনডিটিভি জানায়, ২০১২ সাল থেকে বিবিসির অ্যাকাউন্টের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আয়কর কর্মকর্তারা এদিন বিবিসির কর্মীদের ডেকে নিয়ে কম্পিউটার লগইন করে করের তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়াও সাংবাদিকদের ফোন এবং ল্যাপটপ জব্দ করেন তারা।

গত মাসে বিবিসি ‘ইন্ডিয়া : দ্য মোদি কোয়েশ্চান’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ২০০২ সালে গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় মোদির ভূমিকা তুলে ধরা হয়, যা দেশটিতে ‘বিতর্ক’ সৃষ্টি করে। এতে বলা হয়, ২০০২ সালে গুজরাটের দাঙ্গাকে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

এছাড়াও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং হিন্দুত্ববাদী নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ভারতের বিচারব্যবস্থা মোদিকে সাহায্য করেছে, তা দেখানো হয়েছে তথ্যচিত্রে। ভারত ইতোমধ্যে ইউটিউব ও টুইটার থেকে এই তথ্যচিত্রের সব লিংক ব্লক করেছে।

এই তথ্যচিত্রটিকে ‘বিষাক্ত, অগভীর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন’ বলে অভিহিত করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। তবে বিবিসির অফিসে তল্লাশি চালানোয় ব্যাপক নিন্দার মাঝেও বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া বলেছেন, ‘ওরা (বিবিসি) যদি বেআইন কিছু না করে তাহলে চিন্তার কারণ কী? আয়কর বিভাগকে তার কাজ করতে দেওয়া উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত