তারকায় ঠাসা দল, চেনা আঙিনায় খেলা। কিন্তু বড্ড অচেনা দেখাল পিএসজিকে। ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। গোল হয়েছে একটি। ৫৩ মিনিটে মহামূল্যবান সেই গোলটি করেছেন কিংসলে কোমান। এই কোমানের গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত যে একবার ফাইনাল খেলেছে পিএসজি, ২০১৯-২০ তে, তাতে হেরেছিল। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। মঙ্গলবারও ম্যাচ শেষে বড্ড বিমর্ষ দেখাচ্ছিল ব্রাজিলিয়ানকে। মেসিকেও। শেষ ৩৪ মিনিট খেলা এমবাপ্পেকেও।
৭ দিনের মধ্যে মার্শেই, মোনাকোর পর বায়ার্নের কাছে এই হার। পিএসজির আলগা ফুটবলে বিস্মিত প্রতিপক্ষ কোচ পর্যন্ত, ‘প্রথম ২৫ মিনিট আমরা খুবই ভালো ফুটবল খেলেছি, ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদের। আমাদের কাছে এত বেশি সময় ধরে বল থাকায় আমরা অবাক হয়েছিলাম, আর পিএসজিও তেমন একটা চেষ্টা করেনি। ওরা এত নিচে নেমে ডিফেন্স করবে, নিষ্ক্রিয় ফুটবল খেলবে এবং বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাই থাকবে না, দেখে আমি কিছুটা বিস্মিত।’
পার্ক দ্য প্রিন্সেসে প্রথমার্ধে অতিথিরা ছড়ি ঘুরিয়েছে রীতিমতো। ৬০ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের। ৪৫টি বিপজ্জনক আক্রমণ শানিয়েছে। পোস্ট লক্ষ্য করে শট ছিল দুটি, ৩০ মিনিটে কোমানের ক্রসে দূরের পোস্টে এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিংয়ের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাদের সেরা সুযোগটি ৪৩ মিনিটে, যখন জসুয়া কিমিখের জোরালো নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। পিএসজি বিরতির ঠিক আগে ফ্রি-কিক পায়। মেসির নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই প্রতিযোগিতায় ২০০৩-০৪ পর কোনো ম্যাচে পিএসজির এত সময় লাগল পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিতে!
দ্বিতীয়ার্ধে বল নিয়ন্ত্রণে খানিকটা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে পিএসজি। তবে অষ্টম মিনিটেই গোল খেয়ে বসে, যা আর শোধ করতে পারেনি। কানাডিয়ান আলফনসো ডেভিসের ক্রসে ডি-বক্সে কোমানের ভলি ঠেকানোর মতোই ছিল, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়া দোন্নারুম্মার হাত ছুঁয়ে বল জালে জড়ায়। এই গোলের পর সোলেকে তুলে এমবাপ্পেকে নামান পিএসজি কোচ গালতিয়ের। তিনি দুবার বল জালে পাঠিয়ে উৎসবে মাতলেও অফসাইডে তা বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে ৮২ মিনিটের চেষ্টাটা কিছুটা বিতর্কিত। আক্রমণের শুরুতে সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন নুনো মেন্দেস। দুই মিনিট পর মেসির প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ডিফেন্ডার পাভার্দের পায়ে। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে মেসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পাভার্দ।
হারলেও এমবাপ্পে মনে করেন ৮ মার্চ রিটার্ন লেগ জিতে (কমপক্ষে ২ গোলের ব্যবধানে) তারাই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, ‘আমাদের ম্যাচের শেষ অংশটি মনে রাখতে হবে; আমরা পিছিয়ে ছিলাম কিন্তু আমরা দেখিয়েছি আমরা তাদের সমস্যায় ফেলতে পারি। আমাদের সব খেলোয়াড়কে সুস্থ থাকতে হবে এবং সেখানে (মিউনিখে) জিততে যেতে হবে; (শেষ আটে খেলার) যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।’
তবে পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার যে কোনো পর্যায়ে হেরে গেলে, পরের লেগ আর জিততে পারেনি পিএসজি। বিদায়ই নিতে হয়েছে। একবার নয়, ছয়বার হয়েছে এমন।
