মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে অবৈধ নন : সিইসি

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:১৪ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য মো. সাহাবুদ্দিনের কোনো আইনগত বাধা নেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির প্রশ্নে এ ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি করা হবে অনাকাক্সিক্ষত।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত একটি রায় বলে দিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি যেমন, ঠিক তেমনি একজন অবসরপ্রাপ্ত দুদকের কমিশনার রাষ্ট্রপতি পদে কোনোভাবেই অবৈধ নন। সেদিক থেকে এ প্রশ্নে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি অনাবশ্যক বা সমীচীন হবে না বলে আমি মনে করি। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির প্রশ্নে যদি এ ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়, সেটি হবে অনাকাক্সিক্ষত।’ খবর বাসসের।

কাজী হাবিবুল বলেন, “একটি প্রশ্ন উঠেছে যে, প্রার্থীর সাংবিধানিক বা আইনগত অযোগ্যতা রয়েছে। এটা সত্য যে, দুদক আইনে ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কর্মাবসানের পর কোনো কমিশনার প্রজাতন্ত্রের লাভজনক কোনো পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।’ এটার আলোকে বিষয়টি বিবেচ্য। এতে করে অনেকে বলতে চেয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদটি একটি লাভজনক পদ। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে ওই রায়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে, প্রার্থী যাই বলুক, কমিশনারেরও দায়িত্ব আছে বাছাই করে দেখার। আমরা দেখলাম, আইনগত কোনো অযোগ্যতা নেই। ৯ ধারায় (দুদক আইনের) বলা হয়েছে, কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। আমরা কিন্তু এখান থেকে প্রার্থীকে নিয়োগদান করিনি। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগদান করেননি। প্রধান বিচারপতিও নিয়োগদান করেননি। কেউ নিয়োগদান করেননি এবং কেউ নিয়োগদান করতে পারেন না। উনি নির্বাচিত হয়েছেন। আইন তাকে নির্বাচিত করেছে প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করে।”

সিইসি বলেন, ‘গত ১২ তারিখে আমরা রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। সংসদের দুজন সদস্য প্রস্তাবক এবং সমর্থন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী তাতে সম্মত হয়ে তার স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সংবিধান, সহায়ক আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আমাদের নির্বাচনটি পরিচালনা করতে হয়। বাছাইয়ের কাজটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার তথা নির্বাচনী কর্তার একক এবং অবিভাজ্য। এটি কমিশনের কোনো দায়িত্ব ছিল না। দায়-দায়িত্ব, ভুলভ্রান্তি সবকিছুর দায়ভার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এককভাবে নিতে হবে।’

‘রাষ্ট্রপতির পদ লাভজনক কি না আলোচনা অবান্তর’ : রাষ্ট্রপতির পদকে লাভজনক বলে বিতর্ক তোলা অবান্তর বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি পদটি একদম সম্পূর্ণভাবে বৈধ। গতকাল বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি লাভজনক বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কর্মকর্তা। দুদক আইনে কমিশনার পদে কর্মজীবন শেষে প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদে তার নিয়োগ যথাযথ হয়েছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আমিন উদ্দিন বলেন, ‘একদম সম্পূর্ণভাবে তিনি বৈধ। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা উচিত নয়। আমার মতে যে প্রশ্ন করা হচ্ছে, সেটা অবান্তর।’ অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ (ইতিমধ্যে প্রয়াত) যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন এটাকে লাভজনক পদ উল্লেখ করে রিট আবেদন হয়েছিল। হাইকোর্ট স্পষ্ট কতগুলো ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্রপতি পদ প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৪৮, ৬৬ ও ১৪৭ অনুচ্ছেদ মিলিয়ে পড়লে দেখা যাবে, এটা কোনোভাবেই লাভজনক পদের মধ্যে পড়ে না। রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই সরকারের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত