দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ময়মনসিংহের ভালুকায় উথুয়া ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে দেশের প্রথম র্যাপটাইলস ফার্ম নামের বাণিজ্যিক কুমির খামার পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে এই এলাকায় পর্যটনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। গত মঙ্গলবার খামারটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে খামার কর্র্তৃপক্ষ।
খামারে সংশ্লিষ্টদের থেকে জানা যায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ আরম্ভ হওয়ার পর মালিকদের অনুপস্থিতির কারণে রেপটাইলস খামার পরিত্যক্ত পরিচালনাহীন ছিল। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করার জন্য ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) এর আদালত কর্র্তৃক গঠিত পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদালতের কাছে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনাপরিচালকসহ রেপটাইলস ফার্ম লি.-এর ছয় সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা বোর্ডের সব সদস্যই আদালত কর্র্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। উচ্চ আদালত কর্র্তৃক নিয়োজিত পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে চেয়ারম্যান করা হয়েছে ড. নাইম আহমেদকে। বোর্ডের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ড. শেখ মুহাম্মদ আবদুর রশীদ, রিজাউল শিকদার, ড. মো. রফিকুল আলম, ফখরুদ্দিন আহমেদ (এফসিএমএ, এফসিএ) এবং অন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুমির বিশেষজ্ঞ এনাম হক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
আরও জানা যায়, আদালত কর্র্তৃক গঠিত পরিচালনা পরিষদ ২০২২ সালে ১২ ফেব্রুয়ারিতে খামারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় খামারে অত্যন্ত অসুস্থ কুমিরসহ ১৭৩০টি কুমির পান। দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেখা যায় যে দীর্ঘ সময়ের অবহেলা, অযত্ন এবং খাবারের অভাবে নিয়মিত কুমির মারা যাচ্ছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর কুমিরের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়। গত প্রজনন মৌসুমের পর এখন নতুন বাচ্চাসহ ২৫২৬টি কুমির আছে। এই অবস্থায় খামারটি টিকিয়ে রাখার জন্য এবং এটি লাভজনক করার উদ্দেশ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। উক্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে তহবিল প্রয়োজন তার জন্য ইন্টারন্যাশনাল
লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)-এর আদালত কর্র্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন, হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে ২ বছরের জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকার সংস্থান করা হয়। ফলে খামারটি বর্তমানে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
সরেজমিনে কুমিরের খামারটিতে দেখা যায, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কুমিরের খামারটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শানার্থীরা। বেশিরভাগ দর্শনার্থী কুমির দেখে বেশ উপভোগ করছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন এই খামার দেখতে।
বগুড়া থেকে ভালুকায় মো. মোমিনুল হক তন্ময় নামের এক দর্শনার্থী এসেছেন এই কুমিরের খামার দেখতে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিড়িয়াখানায় কুমিরের খামার দেখেছি। কিন্তু এত কাছ থেকে দেখা হয়নি। এখানে কুমিরের খামার দেখে ভালোই লাগল। ভালুকার মতো জায়গায় এই কুমিরের খামার কখনো দেখতে পারব চিন্তা করিনি।
এই খামারের চেয়ারম্যান ড. নাঈম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খামারের ব্যয় মেটাতে আমরা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করেছি। যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ১৫০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাছাড়া, বিশ্ববাজারে কুমিরের চামড়া, মাংস, হাড়, দাঁতের বেশ কদর, দামও চড়া। ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি কিংবা এশিয়ার চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এগুলোর ব্যাপক চাহিদা। তাই আন্তর্জাতিক মানের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খামার করতে আমরা কাজ করে যাব বলে জানান তিনি।
