রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ছাড়ের দাবি

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৮ পিএম

বৈশি্বক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে সব ধরনের কৃষিজাত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে উৎসে কর কর্তনের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করেছে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে কয়েকটি আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় আইসিএমএবি এসব প্রস্তাব তুলে ধরে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সকালে আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইএবি, বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনাল ফোরাম, ইরনেস্ট অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন। বিকেলে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহের সংগঠনের নেতারা প্রাক-বাজেট আলোচনায় বসেন। দুটি বৈঠকেই এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল ইকোনমির আয়ের ওপর কর আরোপ প্রসঙ্গে আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আয়কর আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে স্থায়ী অফিস না থাকলে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে কর ধার্যের আওতায় আনার বিধান নেই। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে স্থায়ী স্থাপনা না রেখে বিদেশি কোম্পানিগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসা করে যাচ্ছে। ভ্যাট আইনের মতো আয়কর আইনে স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের বিধান করা হলে বিদেশি কোম্পানি স্থানীয় এজেন্ট রাখবে ও তা তাদের বাংলাদেশের স্থানীয় স্থাপনা বলে বিবেচিত হবে। এতে তারা বাংলাদেশে অর্জিত আয়ের ওপর কর প্রদানে বাধ্য থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ করার প্রস্তাব দেন আবদুর রহমান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাল, ডাল, আটা, ময়দাসহ সব ধরনের কৃষিজাত পণ্যে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

বিকেলের বৈঠকে নিমার্ণ খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ সময়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের কাজ চলছে। তাড়াহুড়ো করে কোনো নীতি জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে বরং ধীরে ধীরে সহনীয় পরিবর্তন আনায় বিশ্বাস করে এনবিআর। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মতো এনবিআরেরও পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকা থেকে উদ্ধারের জন্য আমার কাছে যখন আসেন, আমারও তো দেয়ালে পিঠ ঠেকা। আমাকে রেভিনিউ কালেক্ট করতে বলা হয়েছে। আমার দেশের উন্নয়নের জন্য, আমাদের গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমার টাকা দরকার, ফাইনান্স আমাকে সেই রেভিনিউ সংগ্রহ করতে বলেছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে চেয়ারম্যান আরও বলেন, আপনাদের এই সমস্যা শুধুমাত্র কাস্টমস, ভ্যাটের জন্য নয়। সমস্যাটা অন্যভাবে তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য, আমাদের ডলার ক্রাইসিস। যখনই সেগুলোকে অ্যাড্রেস করতে পারেন না, মুক্তির যখন আর কোনো পথ নাই তখনই এই টেবিলে (এনবিআরে) চলে আসেন। অন্যগুলো যখন ম্যানেজেবল না, তখন এনবিআর আছে কাছে, এনবিআরের কাছে একটু আসি। আপনাদের ক্রাইসিস আমরা ফিল করি, আপনাদের দেয়ালে পিঠ অবশ্যই ঠেকে গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশন, অটো ব্রিকস প্রতিষ্ঠানসমূহে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার দাবি করেছে। বিক্রির ওপর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ টার্নওভার কর দিতে হয় এবং কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রেও উৎসে কর দিতে হয় উল্লেখ করে সংগঠনটি এ খাতে কর অব্যাহতির কথা বলেছে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রতি মেট্রিক টন সিমেন্ট ক্লিংকারের কাস্টমস ডিউটি ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়। এই হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। লাইমস্টোন সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবে স্থানীয় পর্যায়ে স্ক্রাপ ক্রয়ের ওপর বর্তমানে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ অগ্রিম কর মওকুফের দাবি করা হয়েছে। বিলেট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে। তবে এই অগ্রিম কর প্রত্যাহারেরও দাবি করা হয়েছে। রড বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ টিডিএস নির্ধারিত আছে, যা ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বর্তমানে উৎসে কর কাটার সর্বনিম্ন হার ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ হার ৭ শতাংশ। এই হার ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি করেছে স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবে বর্তমানে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার দাবি করেছে। রি-ফ্যাক্টরি ব্রিকস, অন্যান্য রি-ফ্যাক্টরি সিরামিক গুডস, আয়রন ও স্টিল সামগ্রীতে ভ্যাট, অগ্রিম কর মওকুফ করারও প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত