নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং সঠিকভাবে স্ক্যারিফাই ও রোলার মেশিন ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে রাস্তা সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোনাইল বাজার-চামটা ব্রিজমুখী সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। এর মধ্যে জোনাইল বাজারের মধ্যে ২৯২ মিটার আরসিসিসহ অবশিষ্ট অংশ কার্পেটিং করা হবে। ১ কোটি ৬৭ লাখ লাখ টাকার চুক্তিতে ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা কাজটি বরাদ্দ পান। তার কাছ থেকে নাটোরের ঠিকাদার আকরামুল ইসলাম আক্কু কিনে নিয়ে কাজটি করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন ভাঙা রাস্তাটি প্রথমে স্ক্যারিফাই (মেশিনের সাহায্যে পিচ ঢালাইসহ খোয়া উপড়ে দিয়ে পুনরায় রোলার করা) করার সময় যথাযথ নিয়ম না মেনে পুরাতন রাস্তার পিচসহ আস্ত কার্পেটিং তুলে আগের মতো করে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ এগুলো ভেঙে ছোট ছোট করে দেওয়ার কথা। আবার স্ক্যারিফাই করার পর ভালোভাবে রোলার করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে পরে খোয়া বিছিয়ে রোলার করা হলেও রাস্তা অসমান থেকে যাচ্ছে। অ্যাজিংয়ে নতুন ও ভালোমানের ইট ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও তা না করে রাস্তার পুরাতন ইট ব্যবহার করা হয়েছে। রোলার করার পর ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে নিম্নমানের ইটের খোয়া। বেশ কিছু জায়গায় পুড়ে যাওয়া ফাঁপা ইটের খোয়াও ব্যবহার করা হয়েছে।
চামটা গ্রামের ভ্যানচালক রাশিদুল ইসলামসহ সেখানে উপস্থিত আরও পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি জানান, এভাবে সংস্কার করা হলে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি গাজীউর রহমান ও সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তারা এ প্রতিবেদককে অনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দিয়ে এসব নিয়ে সংবাদ না লেখার অনুরোধ করেন।
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, আমরা রাস্তায় মানসম্পন্ন খোয়া দিতে বলেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল করিম বলেন, পুরাতন রাস্তার তুলে ফেলা কার্পেটিংয়ের আস্তরণ ভেঙে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু না ভেঙে দিলে অনিয়ম হবে। তিনি রাস্তায় দেওয়া খোয়াগুলোর মান খারাপ নয় বলে দাবি করেন।
